ভারতের কাছে হেরে সেমিতে নেপালকে পেল বাংলাদেশ
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 31, 2026 ইং
গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে ভারতকে হারাতে দুই পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলার। তবে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছে, তাতে ‘প্ল্যান এ’ কিংবা ‘প্ল্যান বি’ কোনোটাই যে কাজে আসেনি সেটা ধরেই নেওয়া যায়। ভুল পাস আর ছন্নছাড়া ফুটবলে ভারতকে হারানোর মতো ফুটবলটাই খেলতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে আজ গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ৩৬তম মিনিটে পিয়ারি জাজার গোলের পর পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ২-০ করেন লিন্ডা। এরপর যোগ করা সময়ে গোল করে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন মানাবিকা।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ‘বি’ গ্রুপের সেরা হওয়ার লড়াই ভারতের কাছে হেরে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে নেপালের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। আর শেষ চারের আরেক ম্যাচে ভারতের প্রতিপক্ষ ভুটান। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী মঙ্গলবার ভারত খেলবে ভুটানের সঙ্গে। বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে গত ৭ আসরের মধ্যে ৬ বারই ফাইনাল খেলা নেপালের।
দিনের অন্য ম্যাচে একই মাঠে শ্রীলঙ্কাকে ২-০ গোলে হারিয়ে, গ্রুপ সেরা হয়ে সেমি-ফাইনালে উঠেছে গত তিন আসরের রানার্সআপ নেপাল। ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ হয়ে সেরা চারে গেছে ভুটান।
ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার বাটলার। কদিন আগেও অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার বাদ পড়েন একাদশ থেকে। তাঁর জায়গায় রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় সুরমা জান্নাতকে। চোটের কারণে আগের ম্যাচ মিস করা মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা সুস্থ হয়ে একাদশে ফেরেন।
মালদ্বীপের বিপক্ষে ১১ সেকেন্ডেই গোল পাওয়া আনিকা ভারতের বিপক্ষেও শুরুতেই গোল পেতে পারতেন। ম্যাচের তখন ১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে বক্সের সামলে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন ভারতের ডিফেন্ডার সিলকি দেবি। ছুটে গিয়ে বল কেড়ে নিয়ে গোলকিপারকে একা পেয়ে গেলেন আনিকা। কিন্তু তার দিকেই দুর্বল শট নিয়ে সহজ এক সুযোগ হাতছাড়া করেন।
অষ্টম মিনিটে মারিয়ার ক্রসে গোল মুখ থেকে লাফিয়েও নাগাল পাননি আনিকা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র-দুজনের কেউই। একটু পর আনিকার ডিফেন্স চেরা থ্রু পাসের নাগাল শামসুন্নাহার জুনিয়র পাওয়ার আগেই ক্লিয়ার করেন ভারতের গোলকিপার।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে ডান দিক দিয়ে বল নিয়ে বক্সের দিকের ছোটা সানফিদা ননগ্রামকে দারুণ ট্যাকলে আটকে দেন সুরভি আক্তার আরফিন। চার মিনিট পর মারিয়ার ব্যাক পাস থেকে বল পেয়ে যান আভীকা সিং। মালদ্বীপ ম্যাচে চার গোল করা এই ফরোয়ার্ডের শট গ্লাভসে জমান মিলি। পোস্টে এটাই ছিল ভারতের উল্লেখ করার মতো প্রথম শট।
একটু পর সতীর্থের লম্বা ক্রসে বল পেয়ে শামসুন্নাহার সিনিয়রের প্রতিরোধ এড়িয়ে সানফিদার শট যায় অনেক বাইরে। বাংলাদেশের রক্ষণে চাপ ধরে রেখে ২৪তম মিনিটে আবারও সুযোগ তৈরি করে ভারত। আরফিনকে কাটাতে গিয়ে সানফিদা সময়ক্ষেপন করলে দ্রুত বক্সে ফিরে কোহাতি-শামসুন্নাহার সামাল দেন পরিস্থিতি।
৩৬তম মিনিটে ভারতকে লিড এনে দেন পিয়ারি। পোস্টের কোনা দিয়ে নিখুঁতভাবে বল জালে জড়িয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও দেখা যায়নি চিরচেনা বাংলাদেশকে। উল্টো আরও দুটি গোল হজম করতে হয় বাটলারের শিষ্যদের। ৫৭ মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমা সমতায় ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছিলেন। পিয়ারিকে কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে একটি ক্রস বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ই এর সুবিধা নিতে পারেননি।
বদলি মাঠে নেমে ৭৯তম মিনিটে ব্যবধান ২-০ করেন লিন্ডা। ডি বক্সে সুরমা জান্নাত মালাবিকাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ভারত। এরপর স্পট কিক থেকে জালে বল পাঠাতে ভুল করেননি ২১ বছর বয়সী লিন্ডা।
হতশ্রী ফুটবলের পসরা সাজানো বাংলাদেশের হতাশা আরও বাড়িয়ে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আরেক দফা লিড বাড়ায় ভারত। ডান প্রান্ত থেকে একটি চমৎকার পাস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁতভাবে জালের ভেতরে পাঠিয়ে দেন মালাভিকা।
আপনার মতামত লিখুন :