• ঢাকা
  • |
Alifhostbd

সব সবজির দাম বেড়েছে, মুরগি-ডিমের বাজারও চড়া


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 17, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

সারা দেশে টানা বৃষ্টির কারণে প্রভাব পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে অল্প কয়েকটি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম প্রতি কেজি এখন ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ভালোমানের কাঁচা মরিচের কেজি এখন ২০০ টাকা।

আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজিবাহী ট্রাক রাজধানীতে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে।

এ ছাড়া, ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বেড়েছে। 

এসব কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারগুলোতে করলা প্রতিকেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, সাজনা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, ধুন্দল  হাইব্রিড ৬০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা,  মুলা ৭০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা ও লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, দেশি শসা ১২০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ১৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি ধনেপাতা ৩০০ টাকা ও হাইব্রিড ধনেপাতা ২২০ কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ থেকে ৮০ টাকা পিস ও ক্যাপসিকাম ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের শাকের দাম বেড়েছে। লাল শাক আঁটিতে ১০ টাকা বেড়ে ২৫ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৫০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা ও ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বাজারগুলোতে আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের চেয়ে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। সোনালি কক মুরগি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩৪০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা, ব্রয়লার ১৮০ টাকা ও দেশি মুরগি ৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

এসব বাজারে এক ডজন মুরগির লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম এক ডজন ১৮০ টাকা, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এসব বাজারে ইলিশ ৩০০ গ্রাম ওজনের ১ কেজি মাছ ১১০০ টাকা থেকে ১২০০ এবং ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বাজারগুলোতে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতিকেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা,  কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৪০০ টাকা ও পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  

টাউন হল বাজারের এক সবজি বিক্রেতা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দাম ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আনিসুজ্জামান নামে এক ক্রেতা বলেন, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য দৈনন্দিন বাজার করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ