
দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন, নোয়াখালীতে একজন মারা গেছেন। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে ও দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে বজ্রপাতে নিহতের এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বাঘবেড় গ্রামের আবদুল মোতালেব, খালিয়াজুরি উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের মোনায়েম খা ওরফে পালান এবং সিরাজগঞ্জের মেচরা ইউনিয়নের আকনাদিঘির চর গ্রামের শুভ মণ্ডল।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে জগন্নাথপুর ফেরি ঘাটে নদে মাছ ধরার সময় আবদুল মোতালেব, বেলা ১১টার দিকে বাড়ির সামনের হাওরে ধান কাটার সময় মোনায়েম খা এবং দুপুরে কৃষ্ণপুর এলাকায় হাওরে ধান কেনার সময় শুভ মণ্ডল বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
খালিয়াজুরি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলার পৃথক স্থানে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- সদর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন, একই উপজেলার বৈটাখালি গ্রামের জমির হোসেন এবং জামালগঞ্জ উপজেলার রুপাবালি গ্রামের আবু সালেক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলায় দেখার হাওরে ধান কাটার সময় জমির উদ্দিন এবং নদীঘাটে দোকান খুলতে যাওয়ার পথে জমির হোসেন বজ্রপাতের শিকার হন। অন্যদিকে জামালগঞ্জ উপজেলায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান আবু সালেক। আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
হবিগঞ্জে বানিয়াচং ও নবীগঞ্জে পৃথক বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও একজন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বৃষ্টিসহ বজ্রাঘাতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন নবীগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মকসুদ মিয়া (৩৫) ও বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণ পাড়ার আব্দুল সালাম (৬০)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বিকেলে মকসুদ আলী গড়দার হাওরে নিজ জমিতে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রাঘাতে আক্রান্ত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তিনি নোয়াগাঁও গ্রামের ছাবর উল্লার ছেলে। একই সময়ে বানিয়াচং উপজেলার জাতুকর্ণপাড়া এলাকার হাওরে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে আব্দুল সালামের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। তিনি একই গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে। এছাড়া বজ্রাঘাতে একই উপজেলার গড়পাড় গ্রামের সামরুজ মিয়া (৫০) নামে আরেকজন কৃষক আহত হয়েছেন।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, নিহত মকছুদ আলীর পরিবারটি দরিদ্র। তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নোয়াখালীর হাতিয়ায় বজ্রপাতে মোহাম্মদ আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার খাসের হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে আরাফাত তার মা শায়েলা আক্তারের সঙ্গে বাড়ির পাশের খেত থেকে বাদাম তুলতে যান। বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। এতে মায়ের সামনেই ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। পরে মায়ের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
চরঈশ্বর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রাশেদ উদ্দিন এবং হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।