প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ May 20, 2026 ইং
দুই ‘অভাগার’ শিরোপা খরা কাটানোর চ্যালেঞ্জ

ফ্রেইবুর্গ এবং অ্যাস্টন ভিলা—ইউরোপীয় ফুটবলে দল দুটির দুঃখ প্রায় একই সমানুপাতিক। মাঠের ফুটবল দিয়ে প্রতিনিয়ত নজর কাড়লেও বড় কোনো সাফল্য না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়ছে তারা। ১৯০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর শীর্ষ স্তরের কোনো মেজর শিরোপা জেতেনি জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গ। ভিলা পার্কের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা সেদিক থেকে এগিয়ে থাকলেও তাদের ট্রফি কেবিনেটে ধুলো জমেছে।
১৯৮২ সালে ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ) এবং ১৯৯৬ সালে লিগ কাপ জেতার পর, দীর্ঘ ৩০টি মৌসুম ধরে মেজর শিরোপা ঘরে তুলতে পারেনি ইংলিশ ক্লাবটি। এবার ইউয়েফা ইউরোপা লিগের ট্রফি জয়ই পারে দুই দলের দীর্ঘদিনের এই শিরোপা খরা ও আক্ষেপের অবসান ঘটাতে।
বুধবার ইস্তাম্বুলের তুপরাস স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ইউরোপা লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে অ্যাস্টন ভিলা ও ফ্রেইবুর্গ। এই ম্যাচটি মূলত দুই দলের জন্যই ইতিহাস গড়ার এবং ট্রফি খরা কাটানোর এক মহা চ্যালেঞ্জ।
টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে নটিংহাম ফরেস্টকে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে ফাইনালে পা রাখে অ্যাস্টন ভিলা। সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ব্রাগার মাঠে ২-১ গোলে হারের পর দ্বিতীয় লেগে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফ্রেইবুর্গ। লুকাস কুবলারের গোল এবং ইয়োহান মানজাম্বির জোড়া স্ট্রাইকে পর্তুজাল প্রতিপক্ষকে ৪-৩ অ্যাগ্রিগেটে হারিয়ে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনালে ওঠে জার্মান ক্লাবটি।
অ্যাস্টন ভিলা এবারই প্রথম ইউরোপা লিগের ফাইনাল খেললেও তাদের ডাগআউটে আছেন এই প্রতিযোগিতার সফলতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ কোচ উনাই এমেরি। এটি এমেরির ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ইউরোপা লিগ ফাইনাল। স্প্যানিশ এই কোচ সেভিয়ার হয়ে তিনবার এবং ভিয়ারিয়ালের হয়ে একবার এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছেন। মর্গান রজার্সের মতো তরুণদের সৃজনশীলতা এবং ওলি ওয়াটকিন্সের দুর্দান্ত ফর্মের ওপর ভর করেই ১৯৮২ সালের পর প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনালে উঠেছে ভিলা। তার মধ্যে গত শুক্রবার লিভারপুলকে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিল থেকে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করেছে এমেরির দল।
ফাইনাল প্রসঙ্গে এমেরি বলেন, ‘এই প্রতিযোগিতায় আমার আগের অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক লড়াই। ফুটবলে অতীতে আপনি যা করেছেন, তা যতই চমৎকার হোক না কেন, তা অতীত। এখন এটি একটি নতুন অধ্যায় এবং আমি এখানে নতুন ইতিহাস লিখতে চাই।’
নিজেদের ক্লাব ইতিহাসে প্রথম কোনো ইউরোপীয় ফাইনাল খেলতে নামলেও, দারুণ সুখস্মৃতি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে ফ্রেইবুর্গ। গত শনিবার বুন্দেসলিগার ম্যাচে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করে টেবিলের সপ্তম স্থান নিশ্চিত করেছে তারা, যা তাদের আগামী মৌসুমের কনফারেন্স লিগ নিশ্চিত করেছে। তবে কোচ জুলিয়ান শুস্টারের দল খুব ভালো করেই জানে, ফাইনালে জয় পেলে তারা এর চেয়েও বড় কিছু অর্জন করতে পারবে। এই ম্যাচে জয়ী হলে বুন্দেসলিগার কম বাজেটের এই ক্লাবটি সরাসরি আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ পাবে। যা ক্লাবটির জন্য আরও কয়েক মিলিয়ন ইউরোর অতিরিক্ত আয়ের পথ খুলে দেবে।
শিরোপা জিততে হলে ফ্রেইবুর্গকে সব সমীকরণ উল্টে দিতে হবে, কারণ কাগজের কলমে অ্যাস্টন ভিলাই স্পষ্ট ফেবারিট। ফ্রেইবুর্গের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস গিন্টার বলেন, ‘এটি ফুটবল, এখানে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে, বিশেষ করে যখন ম্যাচটি ফাইনাল। তাই মাঝে মাঝে আন্ডারডগ বা পিছিয়ে থাকা দলও ফেবারিটদের হারিয়ে দেয়।’
ক্লাবের সাবেক খেলোয়াড় শুস্টারের অধীনে প্রধান কোচ হিসেবে তার দ্বিতীয় মৌসুমেই দলটি সব প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৪ সালে কোচিং লাইসেন্স পাওয়া শুস্টার, ক্লাবের দীর্ঘ ১২ বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করা ক্রিশ্চিয়ান স্ট্রেইচের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। চাপ সামলানো প্রসঙ্গে শুস্টার বলেন, ‘আমি চাপকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। কারণ এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করে এবং যেকোনো কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়।’
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নগবি24