প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 29, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Mar 12, 2026 ইং
খুলনা-মোংলা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪, পরিবারে শোকের মাতম!

খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে খুলনাগামী বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও মোংলাগামী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, চালকসহ ১৫ জন যাত্রী নিয়ে মাইক্রোবাসটি বেলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে এর মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের ২ জন যাত্রী নিহত হন। ভয়াবহ এ সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি একেবারে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসে থাকা কয়েকজন নৌ-সদস্যও আহত হন।
পরে আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত বাকি যাত্রীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও ১০ জন মৃত্যুবরণ করেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। বর্তমানে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এদিকে, মর্মান্তিক এ প্রাণহানির ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মোংলা পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক তার ছেলেকে বিয়ে দিয়ে খুলনার কয়রা এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিপরীত দিক দিয়ে আসা দ্রুতগামী নেীবাহিনীর স্টাফবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪ জন ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন মারা যান। এছাড়া আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে নৌবাহিনীর স্টাফবাসের কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, ৩ ছেলে, ২ মেয়ে, ৪ নাতি, কনে ও তার এক স্বজনসহ ১২ জন ও মাইক্রোবাসের চালক রয়েছে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় ৪ জনের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। তাদের নামপরিচয় জানা যায়নি। আহত দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর তিনজন পুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ও পুলিশ মো. হাসান চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নগবি24