
আজকাল অনেক মানুষকেই বলতে শোনা যায়, ভালো ঘুম হচ্ছে না। কেউ কেউ বলেন, রাতে ঘুমাতে পারেন না। ফলে দিনে ঘুমের ঝিমুনি বা ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ব্যথা বা মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি অনুভব হয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঘুমের অভাব বেশি দেখা যায়। স্বাভাবিকের থেকে দেরিতে ঘুমায় তারা। স্ক্রিন টাইম বা কাজের জন্য দেরিতে ঘুমাতে হয়। যা স্বাস্থ্যকর সীমা অতিক্রম করছে।
ঘুমকে সুস্বাস্থ্যের প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এরপরও ছোট-বড় নানা কারণেই দৈনন্দিন পর্যাপ্ত ঘুম ব্যাহত হয়। এটি সঠিক বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে, একইসঙ্গে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে এবং শরীরের প্রয়োজনীয় শারীরবৃত্তীয় ও মানসিক প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। আর ঘুমের ব্যাঘাত যখন নিয়মিত হতে থাকে, তখন স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে থাকে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের যেসব সমস্যা হয়, সেসব ব্যাপারে হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের জেনারেল মেডিসিনের এমডি, ডা. রাজমাধঙ্গি ডি। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ঘুমের অভাব বিপাকীয় কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিপাক হচ্ছে একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া, যা গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্যে একটি, যেটি শরীর কীভাবে খাবার ও পানীয়কে শক্তিতে রূপান্তর করে।
ডা. রাজমাধঙ্গি বলেন, ঘুমের অভাব বিপাকীয় প্রক্রিয়া ধীরগতির দিকে ঠেলে দেয়। যারা দীর্ঘ দিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারেন না, তাদের প্রায়ই দক্ষতার সঙ্গে ক্যালোরি পোড়ানো বা সঠিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় সিনড্রোমের ঝুঁকি থাকে।
ঘুমের অভাব কীভাবে হরমোনের ব্যাঘাত ঘটায়:
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা বেশি লাগে, যা হয়তো অনেকেই জানেন না। ডা. রাজমাধঙ্গিও স্বীকার করেন বিষয়টি। এর প্রধান কারণ, বিপাক ধীরগতির হওয়া, এর সবটাই কম ঘুমের কারণে হয়। যা একটি শৃঙ্খল প্রভাব হিসেবে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার দিকে পরিচালিত করে।
এ চিকিৎসক বলেন, ঘুম কম হলে ক্ষুধার সংকেত প্রদানকারী হরমোন (ঘ্রেলিন) বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে তৃপ্তির সংকেত প্রদানকারী হরমোন (লেপটিন) হ্রাস পায়। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি আরও ক্ষুধার্ত বোধ করেন এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবারের জন্য আকাঙ্ক্ষা করেন।
অন্য খারাপ দিক হচ্ছে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া। কর্টিসোলের মাত্রা বৃদ্ধি শরীরকে ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল করে। ফলে এটি গ্লুকোজ ব্যবহারে কম দক্ষ হয় এবং সঞ্চিত চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলস্বরূপ, রক্তে শর্করার মাত্রা ফের বেড়ে যায়। এ জন্য মাঝে মাঝে রাত জাগা ভালো নাও হতে পারে আপনার জন্য। এসব কার্যক্রম শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমকে, বিশেষ করে বিপাকীয় ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে।
দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি:
ডা. রাজমাধঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে কম ঘুমানোর ফলে যেসব বড় ধরনের রোগ হতে পারে, তা চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ। পরামর্শ হিসেবে তিনি বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অভ্যাস গ্রহণ করতে হবে। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সামাজিক কার্যক্রম ও স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে। এসব ঘুমের মান খারাপ করে।