
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব ‘নীতিগতভাবে’ গ্রহণ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমনটাই দাবি করেছে ইরান। বুধবার (০৮ এপ্রিল) ভোরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবের মূল নীতিগুলোতে সম্মতি দিয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রস্তাব ভবিষ্যৎ বৃহৎ চুক্তির আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তবে পুরো পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
আইআরআইবি জানিয়েছে, প্রস্তাবে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি। এ ছাড়া রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সব প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ইরানবিরোধী প্রস্তাব বাতিল, ক্ষতিপূরণ প্রদান, এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধ বাহিনী প্রত্যাহার এবং লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সংঘাত বন্ধ করা।
কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে, এই আলোচনার মানে যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ইরানের শর্তগুলো পূরণ এবং বিস্তারিত বিষয় চূড়ান্ত হলে তবেই চূড়ান্ত চুক্তি হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আলোচনা চলাকালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনা দুই সপ্তাহ চলবে। দুই পক্ষ রাজি হলে সময় বাড়ানো যাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে হামলা স্থগিত রাখবে। ইরানের প্রস্তাবকে তিনি আলোচনার জন্য ‘কাজ চলার মতো ভিত্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে যা রয়েছে–
#ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াত ব্যবস্থা, যা ইরানকে একটি অনন্য অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান দেবে;
#প্রতিরোধ অক্ষশক্তি সব উপাদানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সমাপ্ত করার প্রয়োজনীয়তা;
#অঞ্চলের সব ঘাঁটি ও মোতায়েন কেন্দ্র থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনী প্রত্যাহার;
#হরমুজ প্রণালীতে একটি নিরাপদ ট্রানজিট প্রটোকল প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সম্মত প্রটোকল অনুযায়ী ইরানের আধিপত্য নিশ্চিত হয়;
#আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী ইরানের সব ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ অর্থ প্রদান;
#বোর্ড অব গভর্নর এবং নিরাপত্তা পরিষদের সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রস্তাবগুলো প্রত্যাহার করা;
#বিদেশে জব্দ করা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবমুক্ত করা;
#এবং সবশেষে এই বিষয়গুলো বাধ্যতামূলকভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে অনুমোদন করা।
ইরানি কাউন্সিল আরও যোগ করেছে, তেহরান আলোচনায় সম্মত হলেও তারা ‘আমেরিকান পক্ষের প্রতি সম্পূর্ণ অবিশ্বাস’ নিয়েই তা করছে।
তারা জানিয়েছে, ইরান এ আলোচনার জন্য দুই সপ্তাহ সময় দেবে এবং ‘উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে’।
কাউন্সিল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ‘শত্রুর সামান্যতম ভুল’ হওয়ামাত্র ইরান ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে জবাব দিতে প্রস্তুত। সূত্র: আনাদোলু