প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 8, 2026 ইং
দিয়াসের গোলে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে বায়ার্ন

পরিসংখ্যান আর খাতা-কলমের হিসাব—সবকিছুই রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষে। আর কিলিয়ান এমবাপে-ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের হাতের তালুর মতো চিরচেনা সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম। তবুও চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগের প্রথমার্ধে সুবিধা করতে পারেনি রিয়াল মাদ্রিদ। একের পর এক সুযোগ মিসের খেসারত দিতে হয়েছে ১৫বারের শিরোপাধারীদের। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ১-০ গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যেতে হয়েছে আলভারো আরবেলোয়ার শিষ্যদের।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে গোলের লক্ষ্যে ৪ বার শট নিয়েও ব্যর্থ হয়েছে রিয়াল। অন্যদিকে গোলমুখে তিনটি শট নিয়ে একটি বল জালে জড়িয়েছেন দিয়াস। প্রথমার্ধে ৪১ শতাংশ বল দখলে ছিল লস ব্লাঙ্কোসদের, ৫৪ শতাংশ বায়ার্নের।
ম্যাচ ঘড়ির পঞ্চম মিনিটে ডি বক্সের কাছে ডিন হুইসেনের ব্লকে মাটিতে পড়ে যান মাইকেল ওলিসে। তবে সেখান থেকে স্পটকিক নিয়ে সুবিধা করতে পারেননি ফরাসি উইঙ্গার।
দুই মিনিট পর নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় লিভারপুল। দায়োত উপামেকানোর ডান পায়ের শটের গতি আরেকটু বাড়লেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল অতিথি দলের।
বায়ার্নের মুর্হুমুহু অ্যাটাকের পর পূর্ণ রিদমে ফিরতে অবশ্য সময় বেশি নেয়নি রিয়াল মাদ্রিদ। ষোড়শ মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয় লস ব্লাঙ্কোসদের। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভ করে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে বক্সে ডুকে পড়েন কিলিয়ান এমবাপে। তার সেই শট রুখে দেন ম্যানুয়েল নয়্যার।
১৭তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে যায় রিয়াল। এ যাত্রাতেও বাভারিয়ানদের ত্রাণকর্তা নয়্যার। ভিনিসিয়ুস জুনিয়দের ডানপায়ের বুলেট গতির শট বাদিকে ঝাঁপিয়ে বারের বাইরে পাঠিয়ে দেন এই জার্মান গোলকিপার।
২৫তম মিনিটে ওয়ান এন্ড ওয়ান পজিশনে নয়্যারকে সামনে পান এমবাপে। তবে মিডফিল্ড থেকে পাঠানো ক্রসের গতি ছিল একটু বেশিই। যে কারণে চেষ্টা বৃথা যায় ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
অসাবধানতায় অঘটন ঘটতে পারতো ২৭তম মিনিটে। গ্রানব্রি বড় ধরণের সুযোগ মিস করেছেন এসময়। আন্দ্রে লুনিনকে ব্যাকপাস দিতে চেয়েছিল থিয়াগো। সেটি এতই ধীরগতির ছিল যে গ্রানব্রির নাগালে চলে আসে। তার সে শটে জোর ছিল না। তাতে মেলেনি সাফল্য।
২৮তম মিনিটে আরও একটি সুযোগ হেলায় নষ্ট করেন কিলিয়ান এমবাপে। দীর্ঘসময় গোলখরায় ভোগা রিয়াল রাইট উইঙ্গার নুয়্যারকে একা পেয়েও লক্ষ্যবেদ করতে পারেননি। ডিন হুইসেনের ক্রস রিসিভের পর ডান পাশ দিয়ে ডি বক্সে ঢুকে পড়েন এমবাপে। বুলেটগতির নিচু শটও নিয়েছিলেন। কিন্তু লুনিন ছিলেন অপ্রতিরোধ্য।
৩২তম মিনিটে কারেরাসের লং রেঞ্জের ক্রসের সূত্র ধরে আক্রমণের পরিকল্পনা সাজায় রিয়াল। বল নিয়ে নিজেদের মধ্যে চালাচালি করেন আর্দা গুলের, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ভালভার্দে। কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি সে পরিকল্পনা। বরং পাল্টা আক্রমণে ওঠে বায়ার্ন। যদিও কেইন আটকা পড়ে রিয়ালের ডিফেন্স লাইনে।
৩৬তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন চুয়ামেনি। সেটপিসে আবারও স্পটকিক পায় বায়ার্ন মিউনিখ। তবে কাজে দেয়নি এই অর্জন।
৪০তম মিনিটে লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। গ্রানব্রির ক্রস থেকে ডান পায়ের জাদু দেখান কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি তার ষষ্ঠ গোল।
কেইন কিছু জায়গা পেয়ে বল ধরে রাখেন এবং তা গ্রানব্রির কাছে পাঠান। যিনি আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের পেছনে স্লাইড করেন। দিয়াস ঠিক সময়ে দৌড়ে এগিয়ে যান এবং চতুরতার সঙ্গে বলটি নিচের ডান কোণে গড়ান। তাতেই ১-০ লিড নিয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নগরি২৪