প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 28, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 13, 2026 ইং
দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব প্রান্তের বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পহেলা বৈশাখ নতুনের আহ্বান নিয়ে আমাদের জীবনে ফিরে আসে। এটি আমাদের অতীতের জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। তিনি বলেন, বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি এবং কৃষ্টির ধারাবাহিকতা এই দিনের মাধ্যমেই নতুন করে উজ্জীবিত হয়। বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো আয়োজনগুলো আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।
পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্কের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক যুগেও এ দেশের কৃষক প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
দেড় দশকের শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করা নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তাঁর সরকার সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সরকার বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৃষক কার্ড: নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই দেশব্যাপী কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ফ্যামিলি ও ক্রীড়া কার্ড: নিম্নবিত্ত ও খেলোয়াড়দের সহায়তায় বিশেষ কার্ড প্রবর্তন। খাল খনন কর্মসূচি: কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ। ধর্মীয় নেতাদের সহায়তা: ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নববর্ষে চালু হওয়া এই কৃষক কার্ড দেশের কৃষি অর্থনীতিতে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বিশ্বের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের সব হতাশা কাটিয়ে দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে পহেলা বৈশাখ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নগরি২৪