• ঢাকা
  • |
Alifhostbd

কাতার-সৌদির অনুরোধে ইরানে হামলা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 19, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

সময় যত বাড়ছে ক্রমশ জটিল হচ্ছে মধ্য এশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি৷ সোমবার নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আবারও ইরানের উপর সম্ভাব্য সামরিক হামলা শুরু করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র৷ এবিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘জোর প্রস্তুতি’ নিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে৷ শুধু তাই নয়, সামনের কয়েক দিন বা আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই হামলা শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে এবার ইরানে হামলা আপাতত স্থগিত করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তিনি বলেন, “উপসাগরীয় নেতাদের অনুরোধের পর তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত মার্কিন হামলা স্থগিত করেছেন। তিনি এর কারণ হিসেবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র না দেওয়ার চুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন, তবে এটাও সতর্ক করে দিয়েছেন যে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের অনুরোধের পর তিনি ইরানের উপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মতো আলোচনা চলছে।”

ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে করা একটি পোস্টে দাবি করেছেন যে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাকে ইরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সামরিক হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেছেন।

ট্রাম্পের মতে, উপসাগরীয় নেতারা যুক্তি দিয়েছেন যে “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” চলছে এবং তাঁরা এ আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ও অন্যান্য অংশীদারদের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি চুক্তিতে এখনও পৌঁছনো সম্ভব। ট্রাম্প আরও বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিতে “ইরানের জন্য কোনও পারমাণবিক অস্ত্র নয়” তা নিশ্চিত করার একটি প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

“উপরোক্ত নেতাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার ভিত্তিতে, আমি যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ, জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যানিয়েল কেইন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি যে, আমরা আগামীকাল ইরানের ওপর নির্ধারিত হামলাটি চালাব না,” ট্রাম্প লিখেছেন। তবে, তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আলোচনায় গ্রহণযোগ্য ফল না এলে স্বল্প সময়ের নোটিশে একটি “পূর্ণাঙ্গ ও বড় আকারের আক্রমণের” জন্য প্রস্তুত থাকতে মার্কিন বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং পশ্চিম এশিয়ায় ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মধ্যেই এই বিবৃতিটি এসেছে। তবে সামরিক অভিযানের প্রকৃতি বা চলমান আলোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। আঞ্চলিক কূটনীতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর কৌশলগত ভূমিকা এবং ইরানকে জড়িয়ে একটি বৃহত্তর সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে তার মন্তব্যগুলো বিশ্বব্যাপী আলোড়ন ফেলতে চলেছে।

এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইরান রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জারি করা বিবৃতিতে অস্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে আর কোনো 'কৌশলগত ভুল বা ভুল হিসাব' করার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে।

ইরানের শীর্ষ যৌথ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া বলেছেন, নতুন করে মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী 'ট্রিগার টানতে প্রস্তুত' রয়েছে।

"যে কোনও নতুন আগ্রাসন এবং আগ্রাসন ... দ্রুত, নির্ণায়কভাবে, শক্তিশালী এবং ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে," খাতাম আল-আনবিয়ার কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি বলেছেন। ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্রের বর্ণনা অনুসারে ইরানের শান্তি প্রস্তাবটি ইরানের আগের প্রস্তাবের সাথে অনেক ক্ষেত্রে অনুরূপ বলে মনে হয়েছিল, যা ট্রাম্প গত সপ্তাহে "আবর্জনা" হিসাবে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

এটি প্রথমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করা, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার দিকে মনোনিবেশ করবে - একটি প্রধান তেল সরবরাহের রুট যা ইরান কার্যকরভাবে অবরোধ করেছে - এবং সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি৷ ওইদিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের আকাশসীমার ভিতরে সামরিক হামলা চালায়। দীর্ঘ দেড় মাস হামলা, পাল্টা হামলার পরে গত ৮ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি সমঝোতা তৈরি হয়। কথা ছিল, মাঝে বিস্তারিত শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা হবে দু’দেশের মধ্যে৷ কিন্তু, এখনও বেশিদূর এগোয়নি সেই শান্তি আলোচনা৷ সম্প্রতি কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা হলেও তা নানা জটিলতার মুখে পড়ে। ইরান দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনও বড় ছাড় দেয়নি৷ সোমবার ইরানের সংবাদমাধ্যম জানায় যে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় ওয়াশিংটন কোনও অর্থবহ ছাড় দেয়নি।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ