• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Alifhostbd

আবারও হরমুজ বন্ধ করল ইরান!


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 11, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক বাহিনীর নতুন দফা হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে আঘাত হানার দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘কঠোর’ আঘাত করার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুদ্ধ অবসানে চুক্তি করতে তেহরান ‘প্রচুর সময় নষ্ট’ করেছে। এই মন্তব্যের পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের অন্যায্য ও ক্রমাগত আগ্রাসনের জবাবে বুধবার (১০ জুন) তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ শুরু করেছে। মার্কিন হামলার পর পরই ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, আইআরজিসি হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজে আঘাত হেনেছে। গত এপ্রিল মাসে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই দেশই একে অপরের সামরিক ও নজরদারি চৌকি লক্ষ্য করে এই পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে।

নতুন এই সংঘাতের জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের কেশম দ্বীপসহ বন্দর আব্বাস ও সিরিকের মতো বেশ কয়েকটি ইরানি শহরে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী সব ধরনের নৌযানের জন্য ‘সম্পূর্ণ বন্ধ’ করে দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন সেন্টকম এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করছে। এদিকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধের ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় বেড়ে গেছে। এশিয়ার বাজারে সকালের বাণিজ্যে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন হামলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প সতর্ক করে লিখেছিলেন, ‘গতকাল আমরা তাদের কঠোর আঘাত করেছি এবং আজ আবারও তাদের ওপর তীব্র আঘাত হানতে যাচ্ছি।’ ট্রাম্পের মতে, ইরানি নেতারা চুক্তি নিয়ে আলোচনার জন্য অনেক বেশি সময় নিচ্ছেন। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্টো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী বার্তা পাঠিয়ে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ এনেছে। আর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যেকোনো চাপ বা হুমকির মুখে ইরান দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে। পরবর্তীতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও ঘোষণা দেন যে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বোমা ফেলা হবে। হেগসেথ বলেন, ইরানকে চুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা তা নেয়নি; আর কোনো শান্তি চুক্তি না হলে ট্রাম্প ইরানকে আবারও আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথমে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। এরপর থেকে বড় ধরনের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ না হলেও দুই পক্ষই মাঝেমধ্যে একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় হামলার তীব্রতা অনেক বেড়েছে। গত মঙ্গলবার একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করা হলে, আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এই পুরো পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্য আরও গভীর সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক হামলার কারণে যুদ্ধবিরতি এখন কেবল নামমাত্র টিকে আছে। ঝুঁকি এড়াতে সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আর কোনো হামলা বা অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। সূত্র: বিবিসি

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ