সরকার পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে: প্রধানমন্ত্রী
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 20, 2026 ইং
বিএনপি সরকার পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের কাজে হাত দেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২০ মে) বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন অনুষ্ঠান ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন যে দেশের উত্তর এবং দক্ষিণাঞ্চলে পদ্মা নদীতে একটি ব্যারাজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সীমান্তের ওপারে তারা ব্যারাজ তৈরি করে বিভিন্নভাবে পানি সংগ্রহ করছে। এ কারণে শুষ্ক মৌসুমে আমরা নদীতে পানি কম পাচ্ছি। এ কারণে নদীতে দ্রুত পানি কমে যাচ্ছে, ধীরে ধীরে আশপাশগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। ছোটবেলায় আমরা দেখেছি পদ্মার এপার থেকে ওইপাড় দেখা যায় না। এখন দেখা যায় না। শুধু আগে পানি ছিল, আর এখন পানি নেই। ব্যারাজটি এ কারণেই করতে চাচ্ছি যাতে শুষ্ক মৌসুম অথবা বর্ষা মৌসুমেও আমাদের দেশের মানুষ যাতে পানি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। আরেকটি বিপজ্জনক বিষয় হলো ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে আমাদের নদীতে পানি কম। যার ফলে সুমদ্র থেকে নোনা জল ধীরে ধীরে দক্ষিণাঞ্চলে উঠে আসছে। এতে সুন্দরবনসহ ওইসব এলাকার ফসলি জমি, পশুপাখি, ও জনাপদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে আমরা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে যে পানিটি ধরে রাখতে সক্ষম হবো, সেই পানি শুষ্ক মৌসুমে ওই অঞ্চলের মানুষের কাজে ব্যবহার করবো।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের জন্য এই বিএনপি সরকার আগামীতে পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ প্রকল্পে হাত দেবে। যারা বিভিন্ন বড় বড় কথা বলছেন, তাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীর নেতৃত্বে এই বিএনপি সরকার তিস্তা পাড়ে কর্মসূচি পালন করেছে। এটা অন্য কোনো সরকার করে নাই। তাই বলতে চাই এই তিস্তা ব্যারাজও বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করব। যেহেতু আমরা দুর্যোগকে থামাতে পারবো না, সেহেতু আমরা কীভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করা যায় সেটি সম্পর্কে সচেতন হই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী যে মেনিফেস্টো ছিল, যে মিটিং ছিল সেখানে উল্লেখ করেছি- আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করবো। আমরা সরকার গঠন করেছি এবং আমাদের প্রতিশ্রুত সেই খাল খনন শুরু করেছি। কারণ এই খাল খনন কর্মসূচির সঙ্গে মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত, কৃষি জড়িত, ভূমিকম্প পর্যন্ত জড়িত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে সমুদ্রের তীর ধরে একটি রাস্তা নির্মাণ হচ্ছে। সেখানে দেখলাম ৩ শতাধিক গাছ কেটে ফেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালাম। যাতে ডিজাইনটা পরিবর্তন করা হয়। গাছ যাতে রক্ষা পায়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা গত ২০ বছরে যে পরিমাণ পানি মাটির তলদেশ থেকে টেনে তুলেছি, এই পরিমাণ পানি যদি খাল খননের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়েও দেই, বিশেষ করে বর্ষাকালে আসা পানি যদি এই খালের মধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেই, তবুও ২০ বছর সময় লাগবে ঘাটতি পূরণ করতে। এই ২০ বছরে দেশের জনসংখ্যা আরও বাড়বে। এর ফলের খাদ্য উৎপাদন আমাদের আরও বাড়াতে হবে। আমাদেরকে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করা কমাতে হবে। এটি আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাবে। এ বিষয়টিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। তাই আমাদের খাল খনন করতে হবে।’
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ২টায় গাজীপুরের টঙ্গী সাতাইশ এলাকায় নবনির্মিত জাতীয় দুর্যোগ ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন। পরে তিনি তালগাছ রোপন ও একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
এর আগে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। সমাবেশের শুরুতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর নির্মিত ভিডিও তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :