হজরত মুসা (আ.)-এর মাজারের পাশে নতুন ইহুদি বসতি নির্মাণ
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 28, 2026 ইং
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে হজরত মুসা (আ.)-এর মাজারের পাশেই নতুন একটি ইহুদি বসতি নির্মাণ করেছেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। একই সময়ে পশ্চিম তীরজুড়ে বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডব-হামলা ও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পূর্বদিকে হজরত মুসা (আ.)-এর মাজারের কাছেই নতুন একটি ইহুদি বসতি স্থাপন করেছেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। ফিলিস্তিনি বার্তাসংস্থা ওয়াফা এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটি বলেছে, জেরুজালেম ও জর্ডান উপত্যকার মধ্যবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি বসতির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও বেড়েছে। এসব হামলার সময় অনেক ক্ষেত্রেই তারা ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সুরক্ষা পেয়ে থাকে বলে জানিয়েছে ওয়াফা।
এদিকে সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে যানবাহনে চলাচলকারী ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। ওয়াফা জানিয়েছে, পূর্ব জেরুজালেম ও রামাল্লাহর কাছাকাছি এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
এছাড়া হেবরনের দক্ষিণে আল-মুখতার গোলচত্বরে অভিযান চালিয়ে এক ফিলিস্তিনিকে গুলি করে আহত করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
এদিকে নাবলুস ও রামাল্লাহর মধ্যবর্তী সড়ক থেকে এক ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া বেথলেহেমের দক্ষিণ-পূর্বে তুকু শহর এবং পশ্চিমে দোহা এলাকায়ও অভিযান চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি দ্রুত সম্প্রসারণের পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোর ‘কোনও আইনি বৈধতা নেই’ এবং এগুলো আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’।
পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতা এবং বিদ্যমান বসতিগুলোকে বৈধতা দেয়া ও নতুন বসতি স্থাপনের ইসরায়েলি পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন। গুতেরেস বলেন, এসব বসতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ‘ন্যায়সঙ্গত, স্থায়ী ও সার্বিক শান্তি’ প্রতিষ্ঠার অন্যতম বড় বাধা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলের বসতি সম্প্রসারণের নীতির বিষয়ে জাতিসংঘ বারবার যে সতর্কবার্তা দিয়েছে, গুতেরেসের এ বিবৃতি তারই ধারাবাহিকতা।
একই সঙ্গে জাতিসংঘ এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলোর মতো তিনিও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক ও মানবাধিকার আইন অনুযায়ী দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :