ট্রাম্পের ঘোষণায় বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 19, 2026 ইং
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার সুযোগ দিতেই মার্কিন প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গালফ অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে মঙ্গলবারের জন্য পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে বলে ট্রাম্প জানান। এরপর বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার থেকে নেমে ১০৯ ডলারে দাঁড়ায়। সোমবার দিনজুড়ে তেলের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা দেখা যায়। এর আগে সপ্তাহান্তে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধ বন্ধের আলোচনাগুলো কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে কার্যত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে শুরু হয় অস্থিরতা। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রতি ব্যারেলে ২ দশমিক ০৮ ডলার কমেছে। এতে বর্তমান দাম দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ৩৪ ডলারে। সবচেয়ে কাছের সরবরাহ চুক্তি অনুযায়ী জুন মাসের তেলের দাম ১ দশমিক ৫৪ ডলার কমেছে।
এর ফলে প্রতি ব্যারেলের দাম এখন ১০৭ দশমিক ১২ ডলার। এই চুক্তির মেয়াদ আজ মঙ্গলবারই শেষ হতে যাচ্ছে। এর আগে সোমবার মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক লাফে ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি বড় কোনো সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজার অস্থির হয়ে ওঠে।
কিন্তু নতুন করে আলোচনার পথ খোলায় তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার ভয় সাময়িকভাবে কেটে গেছে। দীর্ঘ ১১ সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকায় বৈশ্বিক সরবরাহ এমনিতেই চাপে রয়েছে এবং নতুন সিদ্ধান্ত বাজারে কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন দেশের সরকারি ঋণগ্রহণ ব্যয়ও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধি পাবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে বাধ্য হতে পারে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার একপর্যায়ে ৪.৬৩ শতাংশে পৌঁছায়, যা এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে জাপানের সরকারি বন্ডের সুদহারও বেড়ে যায়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় অতিরিক্ত বাজেটের অর্থ জোগাতে জাপান নতুন ঋণ ইস্যুর পরিকল্পনা করছে।
ফলে দেশটির ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার রেকর্ড ৪.২ শতাংশে পৌঁছায় এবং ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ১৯৯৬ সালের পর সর্বোচ্চ ২.৮ শতাংশে ওঠে। ইউরোজোনের বন্ডের সুদহারও দিনের শুরুতে বাড়লেও পরে তেলের দাম কমায় কিছুটা নেমে আসে। তথ্যসূত্র: বিবিসি/রয়টার্স
আপনার মতামত লিখুন :