দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় ফিরছে মানুষ
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 1, 2026 ইং
পবিত্র ঈদুল আজহার পঞ্চম দিনে সোমবার (১ জুন) রাজধানীর অন্যতম প্রবেশপথ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফেরা কর্মজীবী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। টানা সাত দিনের ছুটি শেষে আজ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পেশাজীবী অনেক মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন। তাই সকাল থেকে ঢাকায় ফেরা প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই ভোগান্তি নিয়ে ফিরতে হয়েছে যাত্রীদের।
যাত্রীরা বলছেন, টিকিট কেটেও সিট পর্যন্ত যেতে পারেননি অনেকেই। গেটে ঝুলে ঝুলেও ফিরেছেন কেউ কেউ। আবার প্রত্যেকটি ট্রেনই সর্বনিম্ন এক ঘণ্টা থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়ে এসেছে। এতে নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পেরে ক্ষোভ ঝাড়ছেন অনেকেই।
সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে অন্তত ১২টি ট্রেন। প্রত্যেকটি ট্রেনেই ব্যাপক পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রীদের বড় একটি অংশ নেমে যাওয়ার পরও কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছানো প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই জনস্রোত দেখা গেছে। সিটে বসার পর দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের নিয়ে বোঝাই হয়ে ফিরছে ট্রেনগুলো।
সকাল ৯টার দিকে জামালপুর থেকে ফেরা 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক্সপ্রেস'-এ দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের গেটে ঝুলে ঝুলে ফিরতে দেখা গেছে। অনেকেই টিকিট কেটেও সিট পর্যন্ত যেতে পারেননি।
এছাড়া কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী থেকে ফেরা ট্রেনগুলোতেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এসব ট্রেনেও দাঁড়িয়ে যাত্রী বোঝাই হয়ে ফিরতে দেখা গেছে।
সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর রেলস্টেশনে পৌঁছেছে পঞ্চগড় থেকে আসা 'একতা এক্সপ্রেস'। এই ট্রেনের যাত্রী মহিদুল অভিযোগ করে বলেন, স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেছি। অনলাইনে টিকিট কেটে রেখেছিলাম। তবুও সিট পর্যন্ত যেতে পারেনি। নিজের বগিতেও চড়তে পারিনি।
অন্যদিকে, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। তবে কোথাও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। ফলে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরতে পেরেছেন যাত্রীরা। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছে পুলিশ।
এদিকে, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটেও যাত্রীচাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যানবাহনের দীর্ঘ সারি না থাকায় পারাপার কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরি এবং যাত্রী পরিবহনে ২০টি লঞ্চ চলাচল করছে।
নৌপথেও স্বস্তিতে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। যাত্রীরা জানায়, দীর্ঘ ছুটির কারণে পরিবারের সদস্যদের আগেই ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ছুটি শেষে নিজেরাও কোনো ঝামেলা ছাড়াই রাজধানীতে ফিরতে পেরেছেন। কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়নি এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাও ছিল সন্তোষজনক বলেও জানায় তারা।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈরী আবহাওয়া ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা মোকাবিলায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে কোস্টগার্ড সদস্যরাও তৎপর ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :