• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Alifhostbd

জব্দকৃত সম্পদের ইস্যুতেই আলোচনা থমকে আছে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 6, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পারমাণবিক কর্মসূচি ইস্যুতে নয়, বরং ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি। শুক্রবার (৫ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করে, তবে তারা ‘একটি অন্ধকার করিডোরে প্রবেশ করবে’।

তেহরানে দেয়া সেই সাক্ষাৎকারে রেজায়ি আরও বলেন, ‘আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। (মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড) ট্রাম্পকেই এই অচলাবস্থা ভাঙতে হবে। বল এখন ট্রাম্পের কোর্টে।’

ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে আরও ১২ বিলিয়ন ডলার মুক্ত করতে হবে।

সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এবং পুনরায় হামলার শিকার হলে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে—এসব বিষয়ে আলোকপাত করেছেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার পথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তার ভাষায়, ট্রাম্প প্রশাসন যদি এই অর্থ মুক্ত করে, তবে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য ‘একটি নতুন দিগন্ত’ উন্মোচন করবে।

রেজায়ি বলেন, ‘যদি তিনি (ট্রাম্প) ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চান, তাহলে এই ২৪ বিলিয়ন ডলার হলো ট্রাম্পের প্রতি ইরানের আস্থার একটি পরীক্ষা। এটি এমন একটি পরীক্ষা, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তীর্ণ হতে হবে। তাহলেই পথ খুলে যাবে। এটি আমাদের নিজস্ব অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ নয়।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় সংঘাতে জড়ায়, তবে যুদ্ধকে পারস্য উপসাগরের বাইরেও বিস্তৃত করবে ইরান। তার মতে, তখন যুদ্ধ হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর, বাব আল-মান্দাব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দেব। এর আগে যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা করেছি, সেগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও আঘাত হানব।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘(নতুন করে পূর্ণমাত্রায়) যুদ্ধের সম্ভাবনা কম।’

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পুরোনো প্রজন্মের সদস্য রেজায়ি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরে ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাহিনীটির নেতৃত্বও দেন তিনি।

ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত এই নেতা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা পরিষদ ‘এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিল’-এ যোগ দেন। এ ছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তবে চারবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কখনো বিজয়ী হননি। সূত্র: সিএনএন

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ