• ঢাকা
  • |
Alifhostbd

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে তীব্র ভর্ৎসনা, কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে বিরল ও কড়া বার্তা দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে এমন একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে, যেটাকে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধনীতির প্রতি স্পষ্ট অনাস্থা ও ভর্ৎসনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই প্রস্তাবে প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বা সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আর এই প্রস্তাব পাস করতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যোগ দেন কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও।

এতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার প্রস্তাবটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়েছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে এটি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদিত হয়েছিল।

সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে চার রক্ষণশীল দলের বাইরে গিয়ে এ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। আর একজন বাদে বাকি সব ডেমোক্রেট সদস্যরা এতে সমর্থন জানান। 

মার্কিন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুদ্ধসংক্রান্ত প্রস্তাব কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সফলভাবে পাস হয়েছে। যদিও এটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ ধারণা করা হচ্ছে, এ প্রস্তাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেটো দেবেন। 

দলের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া চার রিপাবলিকান হলেন লুইসিয়ানার বিল কাসিডি, আলাস্কার লিসা মুরকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেনটাকির র‍্যান্ড পল। এছাড়া কেনটাকির মিচ ম্যাককনেল এবং পেনসিলভেনিয়ার ডেভ ম্যাককরমিক নামের দুজন রিপাবলিকান ভোট দেননি।  

ডেমোক্রেট নেতা চাক শুমার বলেন, বছরের পর বছর ধরে ট্রাম্প ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি এই বিপর্যয়কর যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকান জনগণের জন্য কেবল বিভ্রান্তি, বিশৃঙ্খলা এবং সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি বয়ে এনেছেন।

তিনি বলেন, ট্রাম্পের এই ঐতিহাসিক ভুলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। এ ঘটনা আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট পদক্ষেপ হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।

যুদ্ধ সংক্রান্ত এ প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতা বন্ধ করে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের অনুমোদন পেলে ট্রাম্প ইরানে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে পারবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর ‘আসন্ন কোনো হামলা’ প্রতিরোধের জন্য সীমিত সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আইডাহোর রিপাবলিকান সিনেটর জেমস রিশ বলেন, এই প্রস্তাব পাস হলে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনায় ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল হবে। এটি পাস হলে ইরানিরা আলোচনা ছেড়ে উঠে যাবে। তারা বলবে কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। আমরা যা খুশি করতে পারি।

এদিকে বিবিসি বলছে, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেই যে বিভাজন তৈরি হয়েছে, এই ভোটাভুটি সেটির সর্বশেষ উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওই নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানরা তাদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না।

মূলত সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ইস্যুতে রিপাবলিকানদের একটি অংশ ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছে। এর মধ্যে ১৮০ কোটি ডলারের ‘অ্যান্টি-ওয়েপনাইজেশন’ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান এবং ইউক্রেনের জন্য সহায়তা অনুমোদনের বিষয়টিও রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবারের এই ভোট ছিল ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ১০ম যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত ভোটাভুটি। একই দিনে পেন্টাগন কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ চেয়েছে। আর সেটির বেশিরভাগই চাওয়া হয়েছে ইরান যুদ্ধের ব্যয় মেটানোর জন্য।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, ৬০ দিনের বেশি সময় কোনও সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী হামলা শুরু হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই সময়সীমার হিসাব নতুন করে শুরু হয়েছে।

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হোয়াইট হাউস চাইলে আরও ৩০ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে এবং গত সপ্তাহে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় সংঘাতের স্থায়ী অবসান নিয়ে কাজ করছে।

ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান নিয়ে একটি বিস্তৃত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের হাতে ৬০ দিন সময় রয়েছে।

এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এবং ইপসোসের মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৪ শতাংশ আমেরিকান এই যুদ্ধকে যৌক্তিক মনে করেছেন। 

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ