সেই মেটলাইফেই আবারও চোখ ভিজল মেসির
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 19, 2026 ইং
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর অন্যতম সাক্ষী। এক দশক আগে এই মাঠেই কোপা আমেরিকার ফাইনালে শিরোপা হাতছাড়া করে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। সেই মেটলাইফেই আবারও অশ্রুসিক্ত হলেন মেসি। তবে এবার আবেগের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, কিন্তু অনুভূতির গভীরতা যেন একই রকম।
ফুটবলে অর্জনের তালিকায় আর কিছুই বাকি নেই মেসির। ক্লাব ও দেশের হয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৮টি শিরোপা জিতে তিনি অনেক আগেই নিজেকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে কোনো বড় শিরোপা না জেতার যে আক্ষেপ তাকে তাড়িয়ে বেড়াত, গত কয়েক বছরে সেটিও মুছে গেছে। ২০২১ ও ২০২৪ সালে দুটি কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে বিশ্বকাপ এবং ফিনালিসিমা জিতে আর্জেন্টিনার হয়ে স্বপ্নের সব শিরোপাই ছুঁয়েছেন তিনি।
তবু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের নাম এলেই ফিরে আসে এক বেদনাময় স্মৃতি। ২০১৬ সালের ২৬ জুন কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেছিলেন মেসি। সেই ব্যর্থতায় শিরোপা হারায় আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে হতাশায় ভেঙে পড়ে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। চোখের জল মুছতে মুছতেই বলেছিলেন, দেশের হয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন, কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জেতা যেন তার ভাগ্যে নেই।
এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ কোপা আমেরিকার ফাইনালেও পরাজয়ের তিক্ততা সইতে হয়েছিল মেসিকে। টানা তিনটি বড় ফাইনালে ব্যর্থ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থকই তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সমালোচনা আর হতাশার সেই সময়টাতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। মেটলাইফে কোপা ফাইনালের পর নেওয়া অবসরের সিদ্ধান্ত ছিল সেই জমে থাকা কষ্টেরই বহিঃপ্রকাশ।
তবে সেই বিদায় স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাস পর দেশের মানুষের অনুরোধ, সতীর্থদের আহ্বান এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে জাতীয় দলে ফিরে আসেন মেসি। এরপরই বদলে যায় ইতিহাস। দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপাখরা কাটিয়ে আর্জেন্টিনাকে এনে দেন কোপা আমেরিকার ট্রফি। এরপর বিশ্বকাপ, ফিনালিসিমা এবং আরও একটি কোপা জিতে দেশের ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অধিনায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।
মেটলাইফ স্টেডিয়াম শুধু মেসির বেদনার স্মৃতিই বহন করে না, আছে উজ্জ্বল সাফল্যের গল্পও। ২০১২ সালে এই মাঠেই ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে ৪–৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। সব মিলিয়ে মেটলাইফে পাঁচটি ম্যাচ খেলে চারটি গোল করেছেন মেসি। তাই এই স্টেডিয়াম তার কাছে যেমন কষ্টের, তেমনি আনন্দেরও এক বিশেষ ঠিকানা।
ফুটবল ইতিহাসে অসংখ্য রেকর্ডের মালিক মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষের দিকে পৌঁছে গেছে বলেই মনে করছেন অনেকেই। অবসরের বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও, আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার প্রতিটি ম্যাচই এখন বাড়তি আবেগের। বিশেষ করে মেটলাইফের মতো স্মৃতিবিজড়িত মাঠে তাকে আবারও চোখের জল ফেলতে দেখে সমর্থকদের মনেও ফিরে এসেছে এক দশক আগের সেই দৃশ্য।
তবে সময়ের সবচেয়ে বড় পার্থক্য এখানেই। একসময় যে মেসি নিজেকে ব্যর্থ মনে করে জাতীয় দল ছাড়তে চেয়েছিলেন, আজ সেই তিনিই বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও অসংখ্য সাফল্যে আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধিনায়ক। তাই মেটলাইফে আবারও তার চোখ ভিজলেও, এবার সেই অশ্রুর পাশে দাঁড়িয়ে আছে পূর্ণতার এক অনন্য গল্প।
আপনার মতামত লিখুন :