তেলের সংকট নেই, অনৈতিক ব্যবসার কারণে এমন সংকট: মির্জা ফখরুল
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 24, 2026 ইং
দেশে তেলের সংকট নেই, অনৈতিক ব্যবসার কারণেই এমন সংকট বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয় জেলা প্রশাসন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
জেলার মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে ঘূর্ণিঝড় ও শীলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে চেক ও বরাদ্দপত্র বিতরণ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক রফিকুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খোদা দাদ, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল আলম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে তেমন কোন জ্বালানি সংকট নেই। তবে একটি চক্র ফায়দা লুটতে কাল্পনিক জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করছে।
মির্জা ফখরুল সবাইকে গুজব ও নেতিবাচক কথায় কান না দেবার অনুরোধ করে বলেন, একটা দানবকে পরাজিত ও উচ্ছেদ করতে ঠাকুরগাঁওয়ে ১৩ জনের জীবন গিয়েছে। এরকম সারা দেশে যাঁরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আত্মাহুতি দিয়েছেন আমরা সেসব শহীদগণের প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানাতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের জয়যাত্রা শুরু করেছি।
নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে আমাদের দেয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছি। তারই অংশ হিসেবে, এ জেলায় ভুল্লী ও রুহিয়াকে উপজেলায় উন্নীত করা, মেডিকেল কলেজ, বিমান বন্দর, রাস্তাঘাট ও ইপিজেড নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আরও কি কি এখানে করা যায় তার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ঠাকুরগাঁও সফর করেছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতির কথাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে সারা বিশ্বের পাশাপাশি আমরাও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমাদের সরকার সবসময়ই জনগণকে সাথে নিয়ে যে কোনো সংকট মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও তিনহাজার টাকা এবং ৮০ পরিবারকে ৬ হাজার ২৫০ টাকা প্রদান করেন। এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ৭০ পরিবারকে ১ বান্ডিল টিন ও ৬০ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়। এছাড়া ৮৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ৯০ লাখ টাকার বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়।
এ সময় মোট প্রায় ২০ কোটি টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে ১৯৫টি মসজিদ, ৮৯টি মন্দির, ৫টি কবরস্থান, ৪টি ঈদগাহ এবং ১টি শ্মশান মোট ২৯৪টি প্রতিষ্ঠান।
আপনার মতামত লিখুন :