চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারকে ফুল আর শ্রদ্ধায় শেষ বিদায়
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 30, 2026 ইং
অশ্রু, ফুল আর শ্রদ্ধায় বিদায় জানানো হলো দেশ বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে তার বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা হয়। এরপর সেখান থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেয়া হয় মরদেহ। এ সময় সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।
এদিন সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। সেখানে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। তারপর সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলমসহ আরও অনেকে বিশিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বেলা ১১টার দিকে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নেয়া হয়। এখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন রাখা হলে ফুল দিয়ে সবাই শ্রদ্ধা জানান। এ সময় নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলাসহ আরও অনেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাকে।
শহিদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেয়া হয় দ্বিতীয় জানাজার জন্য। তারপর কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে মরদেহ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় ভুগে সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখে তিনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
আপনার মতামত লিখুন :