• ঢাকা
  • |
Alifhostbd

ইরানকে নিয়ে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর সম্পর্ক ‘তিতা’ হয়ে উঠছে!


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 22, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

ইরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধের ইতি টানতে চাইলেও নেতানিয়াহু যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। মূলত এই ইস্যু ঘিরেই দুই নেতার মধ্যে তীব্র মতানৈক্য দেখা দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে দীর্ঘ ও ‘কঠিন’ ফোনালাপ হয়। ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত এক মার্কিন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে জানিয়েছেন যে মধ্যস্থতাকারীরা একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ বা অভিপ্রায়পত্র নিয়ে কাজ করছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ৩০ দিনের একটি আলোচনা শুরু হবে। শান্তি আলোচনাকে নির্বিঘ্ন করতেই ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, শুরু থেকেই এ আলোচনার বিষয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করে আসছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে চান। একটি মার্কিন সূত্রের দাবি, মঙ্গলবারের ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু ‘চরম উদ্বিগ্ন’ হয়ে পড়েছেন। দুটি ইসরায়েলি সূত্রও নিশ্চিত করেছে যে, ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে দুই নেতার মতবিরোধ এখন স্পষ্ট। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের জন্য নেতানিয়াহু ওয়াশিংটন সফরের পরিকল্পনা করছেন বলে অপর একটি ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে। ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর অ্যাক্সিওসের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দুই নেতার এই বিপরীতমুখী অবস্থানের পেছনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণ। ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের প্রধান কারণ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্ট অস্থিরতা। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বকে আরও বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে হতে পারে।

বিপরীতে, অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে নেতানিয়াহু যুদ্ধ জিইয়ে রাখতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি বছরই ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতে না পারলে ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি ব্যর্থ হবেন। মূলত এ কারণেই আপাতত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনড় অবস্থানে রয়েছেন তিনি।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ