বাংলাদেশে শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে: ইউনিসেফ
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 23, 2026 ইং
বাংলাদেশে শিশুদের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। শুক্রবার (২২ মে) সংস্থাটির প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালে বাংলাদেশজুড়ে শিশুদের ওপর ধর্ষণ ও হত্যাসহ নৃশংস সহিংসতার একাধিক ঘটনার খবর ইউনিসেফকে গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত করেছে। যেসব জায়গায় শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই তারা এমন সহিংসতার শিকার হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইউনিসেফ আরও জানায়, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ও বর্বরতার রিপোর্ট বৃদ্ধি পাওয়া জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। এর জন্য দেশব্যাপী শিশু সুরক্ষা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদ্যমান শাস্তিহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিরোধ, অভিযোগ গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানগত সুরক্ষা, শিশু-বান্ধব পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থা, কমিউনিটি প্রটেকশন এবং সামাজিক সেবার ঘাটতি দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক সহায়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
ইউনিসেফ সতর্ক করে বলেছে, সহিংসতা তখনই বাড়ে যখন সমাজ নীরব থাকে। এ কারণে শিশু, নারী ও পরিবারগুলোকে সহিংসতা বা নির্যাতনের ঘটনা নিকটস্থ সুরক্ষা সেবার মাধ্যমে রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮, যা সহায়তা ও রেফারেল সেবা প্রদান করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্যাতনের শিকার শিশু ও নারীদের ছবি, ভিডিও বা পরিচয় প্রকাশ করা তাদের ওপর আরও একটি নির্যাতন। এমন কাজ ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের জন্য বাড়তি মানসিক আঘাত সৃষ্টি করে। তাই গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী এবং সাধারণ মানুষকে এসব শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউনিসেফ জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবিতে সোচ্চার হতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের অধিকার সব জায়গায়—বাড়ি, স্কুল, কমিউনিটি এবং জনপরিসরে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :