মার্কিন-ইরান যুদ্ধ বিরতির আভাস: অ্যাক্সিওস
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 6, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন, যার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের স্থায়ী অবসানও ঘটতে পারে। আলোচনা সম্বন্ধে অবগত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক মোট চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে রবিবার অ্যাক্সিওস এ খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মধ্যস্থতাকারীরা দুই পর্ববিশিষ্ট একটি চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন। প্রথম পর্বে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি, তার মধ্যেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলবে। দ্বিতীয় পর্বে হবে যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি, বলছে অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন। আলোচনায় বেশি সময় লাগলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়তেও পারে।
রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ভার্জিনিয়াভিত্তিক অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের দিক থেকেও সাড়া পায়নি তারা।
এর আগে রবিবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে তেহরান কথা না শুনলে তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর প্রবল হামলা শুরু হবে।
পাকিস্তান, মিশর ও তুর্কি মধ্যস্থতাকারীদের সাহায্যে তেহরান-ওয়াশিংটন এ আলোচনার পাশাপাশি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির মধ্যেও বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, গেল এক সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্টের গতিবিধি ও বক্তব্য ইঙ্গিত করে এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই হারিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই, মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসে দেয়া ইন্টারভিউতে ট্রাম্প মন্তব্য করলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যেই অস্ত্রবিরতির চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আছে। জানা গেল, ৪৫ দিনের অস্ত্রবিরতির চুক্তি বাস্তবায়নে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ও মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলো।
এর আগেও পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর যুদ্ধবিরতির আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন ইরানের ভাষ্য ছিল, তাদেরকে কোনোভাবে সম্পৃক্ত না করে নিজেরা নিজেরাই সমঝোতার আলোচনা শুরু করেছে মধ্যস্থতাকারীরা। এখন প্রশ্ন ওঠে অ্যাক্সিওসের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প যে দাবি করেছেন তা কতোটা বিশ্বাসযোগ্য।
সূত্র বলছে, মস্কোর সঙ্গে একধরণের আলোচনা শুরু করেছে তেহরান। যদিও বিশ্লেষকদের দাবি, সংঘাতের ৩৮তম দিনে যুদ্ধের যে ভয়ংকর অবস্থা তাতে রণক্ষেত্র থেকে সরে যাওয়ার অবস্থায় নেই কোনো পক্ষই। আত্মমর্যাদার প্রশ্নে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে তেহরান ও ওয়াশিংটনকে।
প্রথমত, গেল জুন এবং এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ডেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে ওয়াশিংটন। দ্বিতীয়ত, গেল এক সপ্তাহে ট্রাম্প যেভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন এরমধ্যে সমঝোতার কোনো পরিবেশ আছে বলে মনে করেন না বিশ্লেষকরা। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দম্ভের সামনে কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না ইরান। অসম যুদ্ধে যেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র- তাতে জোর করে বা চাপ দিয়ে দমানো যাবে না তেহরানকে।
তাহলে প্রশ্ন ওঠে কেনই বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে এমন আত্মবিশ্বাসী মার্কিন প্রেসিডেন্ট? প্রথমত, হরমুজ সচল করতে না পারায় ট্রাম্পের ওপর আস্থা হারাচ্ছে মিত্র দেশগুলো। সাধারণ জনগণ থেকে ডেমোক্র্যাট আইন প্রণেতা- অনেকেই সরাসরি প্রশ্ন তুলছেন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান আক্রমণের যৌক্তিকতা নিয়ে। প্রায় ৬ সপ্তাহে গড়ানো এই সংঘাত থেকে এখনও কী অর্জন করলো যুক্তরাষ্ট্র- তাও স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এসব কারণেই যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বোঝাতে চাইছেন এই সংঘাতের নিয়ন্ত্রণ শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে।
আপনার মতামত লিখুন :