লেবু পানি কি পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 1, 2026 ইং
সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই চোখে পড়ে ওজন কমানোর নানা কৌশল। কেউ বলছেন সকালে খালি পেটে লেবুপানি খেলেই গলে যাবে পেটের মেদ, আবার কেউ দাবি করেন বেশি ঘামলেই দ্রুত ঝরবে চর্বি। অনেকেই বিশ্বাস করেন, শুধু অ্যাবসের ব্যায়াম করলেই কমে যাবে ভুঁড়ি। কিন্তু এসব ধারণার কতটা সত্যি?
ভারতের জনপ্রিয় ফিটনেস কোচ সিদ্ধার্থ সিং, যিনি অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়াসহ একাধিক তারকার প্রশিক্ষক, সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিওতে ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত চারটি ধারণার সত্যতা যাচাই করেছেন। প্রতিটির কার্যকারিতা ১০-এর মধ্যে নম্বরও দিয়েছেন তিনি।
লেবুপানি কি পেটের মেদ কমায়?
অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন সকালে লেবুপানি খেলেই দ্রুত কমবে পেটের মেদ। সিদ্ধার্থের মতে, বিষয়টি পুরোপুরি সত্য নয়। তিনি বলেন, যদি কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে লেবুপানি পান করা হয়, তাহলে তা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। কারণ এটি শরীরকে আর্দ্র রাখে এবং কিছুটা সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়। তবে লেবুপানি নিজে থেকে চর্বি গলিয়ে দেয় এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
বেশি ঘাম মানেই বেশি মেদ ঝরা?
অনেকের ধারণা, যত বেশি ঘামবেন, তত বেশি মেদ কমবে। কিন্তু ফিটনেস কোচের মতে, ঘাম হওয়া আর চর্বি পোড়া এক বিষয় নয়। ঘাম মূলত শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, সাঁতার কাটার সময় খুব একটা ঘাম দেখা যায় না, তবুও এটি দারুণ কার্যকর ব্যায়াম। তাই ঘামের পরিমাণ দিয়ে চর্বি কমার হিসাব করা ঠিক নয়।
শুধু ব্যায়াম করলেই কি কমবে ভুঁড়ি?
এটি সবচেয়ে বড় ভুল ধারণাগুলোর একটি বলে মনে করেন সিদ্ধার্থ। তার ভাষায়, শরীরের নির্দিষ্ট একটি অংশের চর্বি আলাদাভাবে কমানো সম্ভব নয়। ক্রাঞ্চ বা অন্যান্য অ্যাবসের ব্যায়াম পেটের পেশিকে শক্তিশালী করে ঠিকই, কিন্তু শুধু এগুলো করলেই পেটের মেদ কমবে না। মেদ কমে পুরো শরীর থেকেই, যখন নিয়মিত ব্যায়াম, ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন একসঙ্গে অনুসরণ করা হয়।
প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটা কতটা কার্যকর?
সিদ্ধার্থের মতে, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার কদম হাঁটার অভ্যাস বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, তাদের জন্য খুবই উপকারী। তবে তিনি বলেন, একবারে ১০ হাজার কদম হাঁটার চেয়ে সারাদিনে কয়েক দফায় হাঁটা বেশি কার্যকর। এতে শরীর সচল থাকে, অলসতা কমে এবং দৈনন্দিন ক্যালোরি খরচও বাড়ে।
তাহলে ওজন কমাতে সেরা অভ্যাস কোনটি
সিদ্ধার্থের মতে, কোনো শর্টকাট নয় ছোট ছোট স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে ভালো ফল দেয়।
× পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
× প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ করুন।
× পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
× প্রতিদিন শরীরচর্চা বা অন্তত কিছুটা হাঁটার অভ্যাস রাখুন।
× সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নিয়মিত ও ধারাবাহিক থাকুন।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ভাইরাল টিপস বা দ্রুত ফলের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক অভ্যাসই বেশি কার্যকর। লেবুপানি, ঘাম বা নির্দিষ্ট ব্যায়াম কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধারাবাহিক জীবনযাপনই সুস্থভাবে মেদ কমানোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
আপনার মতামত লিখুন :