• ঢাকা
  • |
Alifhostbd

সাহরিতে বেশি পানি খেলে কি দিনে তৃষ্ণা কম পায়? যা জানালেন পুষ্টিবিদ


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 12, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

রমজান মাসে রোজাদারদের মধ্যে সবচেয় বেশি যে সমস্যা হয়, তা হলো সাহরিতে পানি পান। অনেকেই মনে করেন, সাহরিতে এমন কিছু খাওয়া যাবে না, যা দিনভর তৃষ্ণা বাড়ায়। একইসঙ্গে এ সময় বেশি বেশি পানি পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন কেউ। মূলত দিনে যেন বেশি পানি তৃষ্ণা না পায়, এ কারণেই এই পরামর্শ দেয়া হয়।

তৃষ্ণা রোধে সাহরির শেষ সময় একসঙ্গে প্রচুর পানি পান করা এখন অনেকেরই অভ্যাস। তাদের মতে, বেশি পানি পান করলে দিনে তৃষ্ণা কম পাবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি সত্যিই কার্যকর, নাকি কেবলই ধারণা ও বিশ্বাস? এ ব্যাপারে দেশীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্প্রতি কথা বলেছেন ইসলামি ব্যাংক হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারের সিনিয়র পুষ্টিবিদ শরীফা আক্তার শাম্মী।

এ পুষ্টিবিদ জানিয়েছেন, রমজানে শরীর দীর্ঘসময় পানিশূন্য অবস্থায় থাকে। তবে একসঙ্গে বেশি পানি পান করা ঠিক নয়। কারণ, একসঙ্গে অনেক পানি পান করলেও শরীর তা ধরে রাখতে পারে না। এ জন্য ধীরে ধীরে পানি পান করা উত্তম। সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে সাহরিতে একসঙ্গে বেশি পানি পানের এই ধারণা তৈরি হয়েছে।

শরীরে পানির গুরুত্ব: শরীরের অর্ধেকেরও বেশি পানি দিয়ে গঠিত। এই পানি শরীরের রক্ত সঞ্চালন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম প্রক্রিয়া ও বর্জ্য অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। রোজায় দীর্ঘ বিরতিতে পানি পান না করার কারণে সাময়িক পানিশূন্যতার ঝুঁকি হতে পারে, বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায়।

একসঙ্গে অনেক বেশি পানি পানে কী হয়: একসঙ্গে যদি অনেক বেশি পানি পান করা হয়, তাহলে কিডনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত দ্রুত সময়ে তা প্রস্রাবের মাধ্যমে নিঃসরণ করে। এ জন্য সাহরির শেষ মুহূর্তে চার-পাঁচ গ্লাস পানি পান করলেও এর অধিকাংশই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বের হয়ে যেতে পারে। কেননা, শরীর স্পঞ্জের মতো নয় যে, একসঙ্গে অনেক পানি ঢেলে দিলে তা ধরে রাখবে। মানবদেহের তরল ভারসাম্য হচ্ছে একটি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়া।

এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে বেশি পানি পান করার ফলে অনেক সময় পেটে ভারী ভাব, অম্বল, ঢেকুর বা অস্বস্তি দেখা দেয়। অতিরিক্ত পানি প্রস্রাব সৃষ্টি করে। এতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। আর খুব বিরল ক্ষেত্রে অল্প সময় বেশি পানি পানে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা সাময়িকভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তৃষ্ণা বাড়ে কেন: রোজার সময় দিনে তৃষ্ণা পাওয়া কেবল পানির ঘাটতির জন্য হয় না। সাহরিতে অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার, ভাজাপোড়া, মশলাদার খাবার বা অতিরিক্ত চা-কফি পান করা হলে শরীরের পানি ক্ষয় বাড়ে। লবণ পিপাসা বাড়ায় এবং ক্যাফেইন কিছুটা মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে থাকে। এতে শরীর অল্প সময় পানি হারাতে থাকে।

কার্যকর উপায়: ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত মধ্যকার এই সময়কে হাইড্রেশন উইন্ডো হিসেবে বিবেচনা করাই উপযুক্ত। এ সময় একসঙ্গে বেশি পানি পান না করে বরং কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে ৮-১০ গ্লাস পরিমাণ পানি পান করলে শরীর তা ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।

সাহরিতে কতটুকু পানি পান করবেন: যদি আগেই নিয়মিত পানি পান করা হয়, তাহলে সাহরিতে ১-২ গ্লাস পানি পানই যথেষ্ট। পাশাপাশি শসা, তরমুজ, টমেটোসহ তরলজাতীয় ফল ও শাক-সবজি রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।

সতর্কতা: ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, হৃদরোগ বা উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগীদের পানি গ্রহণের পরিমাণ ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। যারা বাসা-বাড়ির বাইরে রোদে কাজ করেন, তাদের পানিশূন্যতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করা উচিত।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ