হরমুজ প্রণালি পার হতে ইরানের অনুমতি পেল ৬ বাংলাদেশি জাহাজ
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 1, 2026 ইং
হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ছয়টি বাংলাদেশি জাহাজ নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে তেহরান সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ঢাকার ইরান দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত জানান, ছয়টি জাহাজের বিষয়ে ইতোমধ্যে তেহরানকে অবহিত করা হয়েছে এবং ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল এসব জাহাজকে সহায়তা করার অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, "জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য (স্পেসিফিকেশন) সময়মতো না পৌঁছানোর কারণে আগে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহে আমরা প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়েছি এবং বর্তমানে এ নিয়ে কাজ চলছে। বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না।"
ইরানে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করা ১৮০ জনের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে সম্প্রতি নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, "অনেকেই ভিসা ও পাসপোর্ট ছাড়াই সেখানে ছিলেন। কিন্তু আমাদের বন্ধুপ্রতিম দেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করে, নামমাত্র জরিমানা নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে।"
যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের নিয়মে পরিবর্তন আসবে জানিয়ে জলিল রহিমি বলেন, "ইনোকেন্ট প্যাসেজ (নির্দোষ চলাচল) নিয়ম অনুসারে ইরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই পথ দিয়ে যেতে পারবে না। এ বিষয়ে আমাদের সংসদ ও সরকার পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। আমরা এই অঞ্চলে আমাদের পূর্ণ আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করব।"
বাংলাদেশকে ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করলেও যুদ্ধের বিষয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে ইরান কিছুটা অসন্তুষ্ট বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, "ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। তবে যুদ্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশের বিবৃতিতে আমাদের কষ্টের জায়গা আছে।"
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫টি শর্ত সংবলিত প্রস্তাবের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, "আমেরিকা যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জন করতে পারেনি, তা শর্তের মাধ্যমে হাসিল করতে চাচ্ছে। আমরা তাদের কোনো শর্তের জবাব দিইনি এবং তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয়নি। ইরান যুদ্ধের পক্ষে নয়, তবে আমরা এমন এক স্থায়ী শান্তি চাই যেখানে আমাদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।"
তিনি আরও বলেন, তুরস্ক, মিশর বা পাকিস্তানের মতো রাষ্ট্রগুলোকে ইরান তার অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও ইরান তার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
আপনার মতামত লিখুন :