• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Alifhostbd

সবজির দাম বেড়েছে, অস্থিরতা কমেনি মুরগির বাজারে


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 3, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজির দাম বেড়েছে। সব ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একইসঙ্গে গত সপ্তাহের মতোই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগি। তবে পেঁয়াজ ও আলুর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। 

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজারগুলোতে গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে বরবটি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, বেগুন প্রকারভেদে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, সাজনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা ও ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি, পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে এক হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি ধনেপাতা কেজি ১৮০ টাকা, হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা ও চাল কুমড়া ৫০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

শীতকালীন সবজির মধ্যে সিম প্রকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৩০ থেকে ৫০ টাকা, দেশি গাজর ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, বড় ফুলকপি ৪০ টাকা পিস, বাঁধাকপি ৩০ টাকা ও লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা পিস দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকসবজির মধ্যে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা, ডাটা শাক ২ আঁটি ২০ টাকা ও পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও পেঁয়াজ কলি ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে ৩,৫০০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও জাতভেদে চিংড়ি কিনতে প্রতি কেজিতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

বাজারে মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ বলেন, “মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি মাছে ২০-৩০ টাকা কমেছে। আজকে এক কেজি পাঙ্গাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছি, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা। সব মাছ আগের মতোই আছে। আর মাছের বাজার ২০-৩০ টাকা ওঠানামা করেই থাকে।”

ঈদের পর সরবরাহ বাড়লেও জ্বালানি সংকট ও পরিবহণ ব্যয়ের কারণে বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। 

অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে সবজির বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক কম। ক্রেতাদের অভিযোগ, কিছু কিছু সবজির দাম এখনো বেশি দাম দিতে হচ্ছে।

মুরগির বাজারে সোনালি কক মুরগি ৩৯০ থেকে ৪০০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩৬০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ টাকা ও দেশি মুরগি ৭৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা ইদ্রিস মিয়া বলেন, “ব্রয়লার কিনতে এসে দেখি কেজি ১৯৫ টাকা দাম চাচ্ছে। দাম কিছুটা কমেছে। সোনালির বাজার তো আমাদের জন্য না। এটা শৌখিন মানুষের খাবারের কাতারে চলে গেছে। আমরা ব্রয়লারেই সন্তুষ্ট।”

আরেক ক্রেতা শফিকুল আলম বলেন, “বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। আরেকটু কমলে সবার কেনার সামর্থ্যের মধ্যে চলে আসবে। ঈদের সময় তো ২২০ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে।”

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, দেশি মুরগির ডিম হালি ১০০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ