• ঢাকা
  • |
Alifhostbd

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শান্তিপূর্ণ বসবাস নিশ্চিত করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 30, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে শুভ বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পৃথিবীতে অনেকগুলো ধর্ম আছে। প্রতি ধর্মেরই অসংখ্য অনুসারী রয়েছেন। প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। প্রতিটি ধর্মেরই কিছু বিধিবদ্ধ নিয়মনীতি রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে স্বাধীনভাবে ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতে পারে এবং নিজ নিজ অধিকার ভোগ করতে পারে, এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণই আমাদের সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও অঙ্গীকার। ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না।’

তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে আমরা ব্যবহার করতে চাই না, অতীতেও তা করিনি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি সবাই সব ক্ষেত্রে সমান অধিকার ভোগ করবে, এটাই বর্তমান সরকারের নীতি।

তারেক রহমান বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী প্রতিটি মানুষের জন্যই একটি নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা নিয়েই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এ দেশটা আমরা স্বাধীন করেছিলাম। তাই, এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার, আমার ও আমাদের সকলের।’

বর্তমান সরকারের একটি রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বারবার প্রমাণিত হয়েছে, একমাত্র বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না।

শুরুতেই সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মগুরু মহামতি গৌতম বুদ্ধ তার অনুসারীদের জন্য পঞ্চশীল নীতি দিয়েছিলেন। এই পঞ্চশীল নীতি হলো প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, ব্যভিচার না করা, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে বিরত থাকা। প্রেম, অহিংস এবং সর্বজীবে দয়াও বৌদ্ধ ধর্মের শিক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যার যার ধর্মীয় নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করলে, আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে পারবো।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ান, প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী, পার্বত্য অঞ্চলের বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য প্রার্থী মাধবী মারমা এবং ড. সুকোমল বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ