ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। তহবিলের অভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সামরিক কর্মকর্তারা মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন।
নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল চলতি মাসের শুরুতে হাউজ আর্মড সার্ভিসেস কমিটিকে জানান, ২০২৬ সালের বাজেটে 'অপারেশন এপিক ফিউরি'-র (ইরান অভিযান) কোনো হিসাব ধরা হয়নি। ফলে রুটিন কার্যক্রম, ফ্লাইট আওয়ার, নতুনদের প্রশিক্ষণ এবং বোনাস প্রদান মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে, সিএনএনের দেখা এক অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে জানা যায়, টেক্সাসভিত্তিক সেনাবাহিনীর 'থার্ড আর্মার্ড কোর'-এর প্রশিক্ষণ বাজেট থেকে গত এপ্রিলে প্রায় ২৯২ মিলিয়ন ডলার কেটে নেওয়া হয়েছে। এমনকি ফান্ডের অভাবে সেনবাহিনীর মেডিকেল স্কুলের ডজনখানেক কোর্সও বাতিল করা হয়েছে। তবে পেন্টাগন এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
মার্কিন সামরিক আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট খাতের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ কেবল সেখানেই ব্যয় করতে হয় এবং এক খাতের অর্থ অন্য খাতে সরাতে কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বাজেট বিশেষজ্ঞ টড হ্যারিসন জানান, সাধারণত 'অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স' (ওঅ্যান্ডএম) খাতের অর্থ দিয়ে প্রশিক্ষণ, জ্বালানি, ভ্রমণ ও সরঞ্জাম মেরামত করা হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে খরচ সামলাতে তারা যে রুটিন ভ্রমণ বা প্রশিক্ষণ বাতিল করছে, সেটি পুরোপুরি বোধগম্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান এই সংঘাতের 'লুক্কায়িত খরচ' ভবিষ্যতে সরঞ্জামের ক্ষয় এবং রক্ষণাবেক্ষণ সংকট হিসেবে সামনে আসবে। পাশাপাশি মিসাইল ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত পুনরায় পূর্ণ করতেও বড় অঙ্কের তহবিলের প্রয়োজন।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা শুরুতে অতিরিক্ত তহবিলের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের কথা ভাবলেও পরে তা অনেক বেশি বলে স্বীকার করেন। গত ১২ মে পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস 'জে' হার্স্ট থার্ড জানান, কেবল অস্ত্র ও ধ্বংস হওয়া উড়োজাহাজ বাবদ এই সংঘাতের খরচ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘাঁটি পুনর্নির্মাণসহ প্রকৃত খরচের পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।
প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তার মতে, সাধারণত সেপ্টেম্বরে অর্থবছর শেষ হওয়ার দিকে এমন আর্থিক সংকট দেখা দেয়। কিন্তু ২০২৬ সালে ক্রমবর্ধমান খরচ ও চলমান অভিযানের কারণে কয়েক মাস আগেই এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিমানবাহিনীর প্রধান জেনারেল কেনেথ উইলসবাখও জানিয়েছেন, ইরান সংঘাত বাহিনীর সামগ্রিক প্রস্তুতিমূলক সংকটকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
এ অবস্থায় দ্রুত 'ওঅ্যান্ডএম' খাতের ঘাটতি মেটাতে হাউজ অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস কমিটির সাবপ্যানেল চেয়ারম্যান রিপাবলিকান প্রতিনিধি কেন ক্যালভার্টসহ অন্যান্য আইনপ্রণেতারা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দ্রুত অতিরিক্ত তহবিলের প্রস্তাব জমা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। সূত্র: সিএনএন








































আপনার মতামত লিখুন :