• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Alifhostbd

সাম্য, ত্যাগ ও মানবিকতার ঈদুল আজহা আজ


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 28, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম জাহানের ঘরে ঘরে বয়ে আনছে আত্মত্যাগ, সখ্য ও পরম আনন্দের বারতা। চারদিকের বাতাসে আজ একটাই ধ্বনি—‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’।

ঈদুল আজহা কেবলই একটি ধর্মীয় আচার বা পশু কোরবানি করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এর গভীরে লুকিয়ে আছে এক মহান ইতিহাস, এক চরম আত্মোৎসর্গের গল্প এবং সর্বোপরি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার এক অনন্য মানবিক দর্শন।

আজ থেকে হাজার বছর আগে হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু, আপন সন্তান হযরত ইসমাইল (আঃ)-কে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। সেই অতুলনীয় আনুগত্য আর ত্যাগের স্মৃতিকে ধারণ করেই প্রতি বছর পালিত হয় এই ঈদ।

তবে এই কোরবানির মূল শিক্ষা পশুর গলায় ছুরি চালানো নয়, বরং নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ, হিংসা আর স্বার্থপরতার মতো ‘মনুষ্যত্ববিরোধী পশুত্বকে’ বিসর্জন দেওয়া। মহান আল্লাহর বাণী অনুসারেই, পশুর রক্ত বা মাংস তাঁর কাছে পৌঁছায় না, পৌঁছায় কেবল বান্দার মনের তাকওয়া বা পরহেজগারি।

ঈদুল আজহার সবচেয়ে সুন্দর ও মানবিক দিকটি ফুটে ওঠে কোরবানির মাংস বণ্টনের সময়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোরবানির মাংসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এক ভাগ রাখা হয় নিজের পরিবারের জন্য। আরেক ভাগ দেয়া হয় আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদেরকে। আর তিন নম্বর ভাগ সমাজের দরিদ্র, অনাহারী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য নির্ধারিত। এই বণ্টন ব্যবস্থা কেবল একটি নিয়ম নয়, এটি সামাজিক সমতা ও সহমর্মিতার এক অপূর্ব দৃষ্টান্ত। যে মানুষটি হয়তো সারা বছর ভালো এক টুকরো মাংস কিনে খেতে পারেন না, আজ ঈদের দিন তাঁর ঘরেও আনন্দের রান্না চড়ে। ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার দেয়াল ভেঙে আজ সবাই এক কাতারে এসে দাঁড়ায়।

ঈদ আমাদের শেখায় সবাইকে বুকে টেনে নিতে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আজ কোলাকুলি করার দিন, একে অপরকে ক্ষমা করার দিন।

পাশাপাশি, বর্তমান সময়ে ঈদুল আজহায় আমাদের মানবিকতা আরও এক জায়গায় বড় পরীক্ষা দেয়, তা হলো পরিবেশ সচেতনতা। কোরবানি শেষে পশুর বর্জ্য দ্রুত ও সঠিকভাবে পরিষ্কার করা আমাদের নাগরিক এবং ধর্মীয় দায়িত্ব। নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রেখে প্রতিবেশীর সুস্থতা নিশ্চিত করাও কিন্তু কোরবানির অন্যতম এক মানবিক শিক্ষা।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদের প্রধান জামাত আয়োজনের জন্য ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, কূটনীতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঈদের জামাতে অংশ নেবেন। এ উপলক্ষে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এদিকে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো ঈদ উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। ঈদের দিন সরকারিভাবে হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু সদনে উন্নত বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে দীর্ঘ ছুটি শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। ঈদের মূল ছুটির সঙ্গে নির্বাহী আদেশে ঘোষিত অতিরিক্ত ছুটি মিলিয়ে এ দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ