পোশাক রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 16, 2026 ইং
বৈশ্বিক তৈরি পোশাক (আরএমজি) বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান নতুন প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ধীরগতি, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খলের চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর নতুন বাণিজ্য সুবিধার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকেরা বাড়তি চাপের মধ্যে রয়েছেন। একই সময়ে ভারত ও ভিয়েতনাম নতুন বাজার, বাণিজ্য চুক্তি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে এখন শুধু কম উৎপাদন ব্যয়ই যথেষ্ট নয়। দ্রুত পণ্য সরবরাহ, উন্নত প্রযুক্তি, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং অনুকূল বাণিজ্য চুক্তি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এসব ক্ষেত্রে ভিয়েতনাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটি উচ্চমূল্যের পোশাক রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ভারত ও পোশাক ও বস্ত্র খাতে রপ্তানি বাড়াতে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিচ্ছে। সম্প্রতি কার্যকর হওয়া ভারত–যুক্তরাজ্য বাণিজ্য চুক্তির ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন। শিল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, এর মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যের বাজারে ভারতের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
তবে ভারতের পোশাক শিল্পও চ্যালেঞ্জমুক্ত নয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বল সমন্বয়ের কারণে ভারত প্রতিবছর অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৭০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য পোশাক রপ্তানি হারাচ্ছে। গবেষণাটি ইঙ্গিত করে, কেবল বাণিজ্য চুক্তি নয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতাও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ডলারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের মূল্য কমানোর চাপ লাভের পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর সম্ভাব্য শুল্ক সুবিধা হারানোর বিষয়টিও রপ্তানিকারকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখনও দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস। তবে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য, কৃত্রিম তন্তুভিত্তিক পোশাক উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নতুন বাজারে প্রবেশের ওপর জোর দিতে হবে।
ভারত, ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশ—তিন দেশই বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আগামী কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি, ভোক্তা চাহিদা, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং উৎপাদন দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে কোন দেশ বৈশ্বিক বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :