• ঢাকা
  • |
Alifhostbd

গঙ্গা চুক্তি: নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের, জেআরসিতে আলোচনার প্রস্তাব ভারতের


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 30, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) কাঠামোয় আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারত। এ বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগের পর এখন নয়াদিল্লির আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয়েছিল। দুই দেশের পানি ও নদী-সংক্রান্ত সব বিষয়ই দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী কমিশনের আলোচ্যসূচির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

তিনি আরও বলেন, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির যৌথ কমিটির বৈঠকও কারিগরি পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের জনগণের পানির অধিকার ও ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করেই নতুন চুক্তি করতে চায় সরকার।

বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, অভিন্ন নদীগুলো থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন চুক্তি প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। এখন তাদের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর। আগামী ডিসেম্বরেই চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন চুক্তির আগে বিদ্যমান চুক্তিটি ব্যাপকভাবে পর্যালোচনা ও সংস্কারের প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, এ প্রক্রিয়ায় অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যথাযথভাবে পানির ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশ বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সম্প্রতি মরিশাসে নবম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানও বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করে এমন একটি নতুন বা সংশোধিত চুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অভিন্ন নদীগুলো দুই দেশের অভিন্ন ঐতিহ্য ও স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। তাই জনগণের আস্থা অর্জন করবে—এমন একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার বিকল্প নেই। আগামী ২৫ থেকে ৫০ বছরের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্সের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান বলেন, প্রায় তিন দশক আগে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি হওয়ায় বর্তমান বাস্তবতার আলোকে এটি সংশোধন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য চুক্তিটি নবায়ন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ