পাকিস্তানে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 27, 2026 ইং
শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। বুধবার (২৭ মে) দেশজুড়ে ঈদের জামাতে মুসল্লিরা বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিশেষ দোয়া করেন। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ, কাশ্মীর এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনের জন্য প্রার্থনাও করা হয়।
সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ বলছে, পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজে দেশজুড়ে মানুষ ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতির অবসান কামনায় দোয়া করেন। দিনটি শুরু হয় মসজিদ ও ঈদগাহে বড় বড় ঈদের জামাতের মাধ্যমে।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তারা পশু কুরবানি দেন। এই মাংস আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণের পাশাপাশি দিনজুড়ে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজনও রেখেছে পাকিস্তানিরা।
নামাজে দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত ও মানবিক সংকটে থাকা মুসলমানদের কল্যাণ কামনায়ও বিশেষ দোয়া করা হয়। ঈদের খুতবায় ধর্মীয় আলেমরা ত্যাগ, ঐক্য ও সহমর্মিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা তিন দিনের এই ধর্মীয় উৎসবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাদের বার্তায় ঈমান, ত্যাগ, ঐক্য ও সহমর্মিতার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমকর্ধমান উত্তেজনার কথাও উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, ঈদুল আজহা হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)-এর আত্মত্যাগ, বিশ্বাস ও নিঃস্বার্থতার চিরন্তন মূল্যবোধের প্রতীক। তিনি নাগরিকদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা স্মরণ রাখার, তাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার এবং মানবসেবার মানসিকতা জোরদারের আহ্বান জানান।
এছাড়া ফিলিস্তিন ও ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের নিপীড়িত মুসলমানদের প্রতিও সংহতি প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেন, ঈদুল আজহা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ধৈর্য, আন্তরিকতা ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, প্রকৃত সফলতা সম্পদ বা ক্ষমতায় নয়, বরং তাকওয়া, মানবসেবা ও সহমর্মিতায় নিহিত।
তিনি বলেন, এতিম, বিধবা, শ্রমিক, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে ছাড়া কুরবানি পূর্ণতা পায় না। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য, সহনশীলতা, সংলাপ, আইনের শাসন ও জনসেবার ওপর গুরুত্বারোপও করেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, বিমানবাহিনী প্রধান ও নৌবাহিনী প্রধানও ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর জানিয়েছে, সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্থায়ী শান্তি, সমৃদ্ধি ও জাতীয় ঐক্যের জন্য দোয়া করেছে এবং পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
তারা আরও বলেছে, ঈদুল আজহা ত্যাগ, ঈমান ও ঐক্যের প্রতীক। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়েছে, তাদের আত্মত্যাগ দেশের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :