• ঢাকা
  • | বঙ্গাব্দ
Alifhostbd

বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে: অর্থমন্ত্রী


FavIcon
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 12, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন: Alifhostbd

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে।’

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এ সময় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট রেজিম ও অন্তবর্তী সরকারের পর এই বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত ১১ বছর ধরে পে-স্কেল নেই, কিন্তু এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের ব্যয় মেটাতে সমস্যা হচ্ছে। বেসরকারি খাতে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বাড়লেও সরকারি খাতে সেই সমন্বয় হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা আশা করছি বেতন বাড়ার সাথে সাথে দুর্নীতি স্বাভাবিকভাবে কমবে। তাদের যখন আয় বাড়বে, তাদের যখন জীবন যাত্রা একটু উন্নত হবে। তখন নিশ্চয়ই দুর্নীতি কমবে।

বাজেট প্রণয়নে চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সাধারণত একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাংলাদেশে কমপক্ষে ছয় মাসের একটি কর্মযজ্ঞ থাকে। তবে, আমাদের ক্ষেত্রে সময় ছিল মাত্র দেড় থেকে দুই মাস। এত কম সময়ের মধ্যে একটি বাজেট প্রস্তুত করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। তারপরও সবার সহযোগিতায় আমরা কাজটি সম্পন্ন করেছি। আমরা কতটুকু সফল হয়েছি, সেই সিদ্ধান্ত দেশের জনগণই নেবে।’

এবারের বাজেটের ভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই বাজেটের প্রেক্ষাপটটা সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। দীর্ঘ এক ফ্যাসিবাদী শাসনের পর একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এরপর নির্বাচিত সরকারের এই সময়টাতে জনগণ বাজেটের আসল কার্যকারিতা ফিরে পেয়েছে। বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে দেশবাসী এমন একটি বাজেট মিস করেছে, যা সত্যিকার অর্থে জনগণের চিন্তার প্রতিফলন ঘটায়। বাজেট বলতে মূলত আমরা জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনকেই বুঝি।’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নে সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অর্থনীতিকে আরও গণমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। অতীতে অর্থনীতি কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির মূলধারার বাইরে থাকা সাধারণ মানুষের জন্যও সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছি। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ, কর্মসূচি ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বাজেট শুধু নীতিমালা নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘রোডম্যাপ’ বা রূপরেখাও বাজেটে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড় দশকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্ব এখন নিয়মভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে ক্রমশ সুরক্ষাবাদী (প্রটেকশনিস্ট) ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কারণে যে মূল্যস্ফীতি তৈরি হয়, সেখানে সরকারের করার খুব বেশি কিছু থাকে না। তবে দেশের অভ্যন্তরে যেসব কারণে ব্যবসার ব্যয় বাড়ে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মূল্যস্ফীতির ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশে ব্যবসা সহজীকরণের সূচক (ইজ অব ডুইং বিজনেস) অত্যন্ত নিচের দিকে অবস্থান করছে। এর অর্থ ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়ও বেশি। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রক সংস্কার ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরবরাহব্যবস্থা কার্যকর রাখতে হবে। পণ্যের উৎস থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। একইসঙ্গে জ্বালানি, খাদ্য ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অন্তত তিন মাসের মজুত এবং খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, অতীতে অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক বা স্পট ক্রয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, যেখানে মূল্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত গুদাম ও সংরক্ষণব্যবস্থা এবং কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা গেলে ব্যয় অনেক কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং দুর্নীতি কমানো গেলে ব্যবসার খরচও কমবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (হাজী ইয়াছিন), স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ডাক- টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজার বিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করছেন অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার।

এর আগে বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দেশের ইতিহাসে এটি সবচেয়ে বড় বাজেট। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে প্রণীত এ বাজেটের আকার দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

আলোচিত শীর্ষ ১০ সংবাদ