নাটকীয়তার পর হোয়াইটওয়াশ এড়াল অস্ট্রেলিয়া
নগরি২৪
নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 14, 2026 ইং
৩৬ বলে ৩০ রানের সমীকরণে পরপর তিন ছক্কায় ২১ রান দিয়ে গেলেন তাসকিন আহমেদ। ম্যাচ চলে গেল অস্ট্রেলিয়ার হাতের মুঠোয়। সেখান থেকেই শুরু শরিফুল ইসলামের জাদুর। পরপর দুই ওভারে নিলেন ৩ উইকেট। সঙ্গে যোগ দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।
মাত্র ৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট নিয়ে উল্টো জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষের উইকেট আর নিতে পারল না স্বাগতিকরা। শেষ ওভারে তাসকিনের বলেই বাউন্ডারি মেরে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করে হোয়াইটওয়াশ এড়ান অ্যাডাম জ্যাম্পা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারায় অস্ট্রেলিয়া। আগে ব্যাট করে তিন ব্যাটারের ফিফটিতে ২৭৪ রানের পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। জবাবে কুপার কনোলির সেঞ্চুরিতে ৩ বল বাকি থাকতে জেতে অস্ট্রেলিয়া।
অবিশ্বাস্য বোলিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৪৮ রানে ৬ উইকেট নেন শরিফুল ইসলাম। ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের পঞ্চম বোলার তিনি। আগের ৪ জন- মাশরাফি বিন মুর্তজা, রুবেল হোসেন, রিশাদ হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
নাটকীয়তা ছাপিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক কনোলি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরিতে ১৩৪ বলে ১৪৯ রানের ইনিংস খেলেন ২২ বছর বয়সী বাঁহাতি ওপেনার।
রান তাড়ায় দুর্দান্ত শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ৪ ওভারে ৪০ রান করে ফেলেন দুই ওপেনার জশ ইংলিস ও কনোলি। পঞ্চম ওভারে আক্রমণে এসেই এই জুটি ভাঙেন শরিফুল। ১২ বলে ২১ রান করে আউট হন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ইংলিস।
এক বল পর ম্যাট রেনশকেও ফেরান শরিফুল। দ্বাদশ ওভারে তাসকিন আহমেদের প্রথম বলে সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায়ঘণ্টা বাজে ৮ রান করা অ্যালেক্স কেয়ারির। ৭০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া।
সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়েন কনোলি ও মার্নাস লাবুশেন। সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৫১ বলে নিজের ফিফটি পূরণ করেন কনোলি। নতুন স্পেলে ফিরে ৪৫ বলে ২৯ রান করা লাবুশেনকে আউট করেন শরিফুল।
এরপর ঝড় তোলেন কনোলি। পঞ্চাশ থেকে সেঞ্চুরিতে যেতে মাত্র ৩৬ বল লাগে তার। পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে তিনি গড়েন ৬৮ রানের জুটি।
অস্ট্রেলিয়ার দুইশ হওয়ার পর শেখ মেহেদি হাসানের নিরীহ এক বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গ্রিন (৩৫ বলে ২৭)। সফরকারীদের ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ায় কিছুটা হলেও আশা জাগে বাংলাদেশ ডাগআউটে।
তবে স্বাগতিকদের হতাশায় ডুবিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়েন কনোলি ও অলিভার পিক। ৩৬ বলে ৩০ রানের সমীকরণে তাসকিনের ওভারে টানা ৩টি ছক্কা মেরে ম্যাচ প্রায় নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে নেন কনোলি।
শেষ ৫ ওভারে ৯ রানের সমীকরণে জাদু নিয়ে হাজির হন শরিফুল। ৪৬তম ওভারে পরপর দুই বলে পিক ও জাভিয়ের বার্টলেটকে আউট করেন বাঁহাতি পেসার। যার সৌজন্যে পূর্ণ হয় তার ক্যারিয়ারের প্রথম ৫ উইকেট।
পরের ওভারে বেন ডোয়ার্শিসের ফিরতি ক্যাচ ঝাঁপিয়েও নিতে পারেননি মুস্তাফিজুর রহমান। তবে পরের ওভারে ডোয়ার্শিসকে পয়েন্টে ক্যাচ বানিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন শরিফুল।
সেই ওভারেই পঞ্চম বলে গালি অঞ্চলে অ্যাডাম জ্যাম্পার ক্যাচ ছেড়ে দেন তানজিদ হাসান তামিম। ফলে ৭ উইকেট হয়নি শরিফুলের।
শেষ ২ ওভারে ৫ রানের সমীকরণে ১৮ বল পর স্ট্রাইক পান কনোলি। প্রথম বল ওয়াইড করে বসেন মুস্তাফিজ। তবে ওভারের তৃতীয় বলে ফুল লেংথ ডেলিভারি ড্রাইভ করতে গিয়ে স্টাম্পে টেনে আনেন কনোলি। ১৩৪ বলে ১৪৯ রান করে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার।
জয় থেকে তখনও ৪ রান দূরে ছিল অস্ট্রেলিয়া। পরে শেষ ওভারে বাকি ৩ রান। প্রথম দুই বল ডট করেন তাসকিন। তবে তৃতীয় বলে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ড্রাইভ করে চার মেরে দেন জ্যাম্পা। ম্যাচ জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে টানা ছয় টস হারের পর এদিন কয়েনভাগ্য পাশে পান নাজমুল হোসেন শান্ত। মেহেদী হাসান মিরাজের কনকাশনের কারণে এই ম্যাচের নেতৃত্বভার পান শান্ত। টস জিতে তিনি নেন ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত।
তবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা তেমন ভাল হয়নি। প্রথম ওভারে জাভিয়ের বার্টেলেটের বল স্টাম্পে টেনে আনেন সৌম্য সরকার (২)। এরপর সাবলীল ব্যাটিং করতে পারেননি তিন নম্বরে নামা ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক শান্ত।
আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমও ছন্দ খুঁজে পাননি। পাওয়ার প্লের শেষ বলে ম্যাট রেনশর বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ২৪ বলে ১৯ রান করা বাঁহাতি ওপেনার। পরে রেনশর বলে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন ৫০ বলে ২৪ রান করা শান্ত।
মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে ধীরে ধীরে দলকে এগিয়ে নেন তাওহিদ হৃদয় ও লিটন কুমার দাস। দুজন মিলে গড়ে তোলেন ১০৭ বলে ৯২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি।
মিরপুরে ওয়ানডেতে নিজের প্রথম ফিফটির সম্ভাবনা জাগান লিটন। তবে চল্লিশ পেরিয়ে ধীরে হয়ে যায় তার ব্যাটিং। একপর্যায়ে পেশির টানে উঠেই যান এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। তখন তার নামের পাশে ছিল ৭৩ বলে ৪৮ রান।
এরপর রানের গতি বাড়ান হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। দুজনের জুটিতে আসে ৮৩ বলে ৯৩ রান। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৬২ বলে ফিফটি করেন হৃদয়। এরপর রানের গতি বাড়িয়ে তিনি এগিয়ে যান সেঞ্চুরির দিকে।
তবে বেন ডোয়ার্শিসের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়ে যান হৃদয়। তার ব্যাট থেকে আসে ৮ চারে ৮৮ বলে ৮৩ রান। অন্য প্রান্তে সাবলীল ব্যাটিংয়ে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৪৩ বলেই ফিফটি করে ফেলেন মোসাদ্দেক।
পরে মিরাজের জায়গায় সুযোগ পাওয়া শেখ মেহেদি হাসান হতাশ করেন। ৩ রান করতে ৯ বল খেলে আউট হন তিনি।
ইনিংসের ১০ বল বাকি থাকতে আবার ব্যাট করতে নামেন লিটন। দুই বল খেলেই ফিফটির জন্য বাকি থাকা ২ রান করে ফেলেন তিনি। মিরপুরের মাঠে এটিই তার প্রথম ফিফটি। পরে ইনিংসের শেষ ওভারে ছক্কাও মারেন লিটন।
শেষ পর্যন্ত ৭৮ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। আর মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস।
আপনার মতামত লিখুন :